<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" version="2.0"><channel><title><![CDATA[Leader Speaks]]></title><description><![CDATA[Leader Speaks]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev</link><generator>RSS for Node</generator><lastBuildDate>Fri, 18 Sep 2026 18:25:27 GMT</lastBuildDate><atom:link href="https://leaderspeaks.hashnode.dev/rss.xml" rel="self" type="application/rss+xml"/><language><![CDATA[en]]></language><ttl>60</ttl><item><title><![CDATA[কুমিল্লা মহানগরীর নির্বাচনি জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণ]]></title><description><![CDATA[(সঞ্চালক: এ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর, বাংলাদেশের গণমানুষের অন্যতম নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে।)
(জনতার স্লোগান: নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার!)
আমীরে জামায়াত: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাত...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-the-election-rally-in-comilla-city</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-the-election-rally-in-comilla-city</guid><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[Jamaat]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Sat, 31 Jan 2026 05:39:03 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769837906764/73b1efe1-7064-4d59-b453-bbd1552498f0.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p><em>(সঞ্চালক: এ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর, বাংলাদেশের গণমানুষের অন্যতম নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে।)</em></p>
<p><em>(জনতার স্লোগান: নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার!)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। <em>(জনতার সাড়ার পর)</em> আবার দ্বিতীয়বার সালাম—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p>মাশাল্লাহ, কেমন আছেন আপনারা? আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, ওয়াসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়ালা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাঈন।</p>
<p>দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময় পরে আজ আবার আপনাদের সামনে আমি হাজির হতে পেরে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p>প্রিয় কুমিল্লাবাসী, এখানেই তো এই ময়দানে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম—ইনশাআল্লাহ কুমিল্লা বিভাগও হবে এবং কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। আমাদের ভাইয়েরা এখানে বলেছেন, আমরা যদি সরকার গঠন করি তাইলে এটা করবো কিনা? যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি, এটা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আল্লাহর ফয়সালায় অন্য কেউ যদি সরকার গঠন করে, আমরা এটা করতে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। ১৮ কোটি মানুষের দেশ, চারটা বিভাগ ছিল, বেড়ে বেড়ে আটটা হয়েছে, ১০টা হবে, ১২টা হবে—কোন সমস্যা নাই। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হতে হবে।</p>
<p>দুই নম্বর, বিমানবন্দরের কথা বলা হয়েছে। এখানে একটা ইপিজেড আছে। এর সাথে বিমানবন্দরের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাত আছে পা নাই—তার কোন মানে আছে? হাতও থাকতে হবে, পাও থাকতে হবে, তা না হয় মানুষটা সুস্থ থাকবে। একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত, ইনশাআল্লাহ হবে। তবে শর্ত হচ্ছে বিমানবন্দর চালু হওয়ার পরে কুমিল্লা থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া বাই রোড কমাইয়া বিমানটাকে বাঁচাইতে হবে। এই শর্ত যদি পূরণ হয় ইনশাআল্লাহ হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, যদি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায় তাহলে শুধু দেশি নয় বিদেশিরাও এখানে ইনশাআল্লাহ হুমড়ি খেয়ে পড়বে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য এয়ার সার্ভিসকে চয়েস করবে।</p>
<p>আরো অনেক দাবি আপনাদের আছে, সবগুলাই সংগত। আমরা একটাই কথা দিচ্ছি—আমরা কোন এলাকাকে কোন নামের কারণে, পূর্ব কোন অযৌক্তিক ধারণার কারণে আমরা অবশ্যই তাদের হক থেকে বঞ্চিত করবো না ইনশাআল্লাহ। আগে যারা সরকার চালিয়েছেন তাদের অনেক দুঃখ-বেদনা ছিল। কার বিরুদ্ধে? ভাই বলছেন কুমিল্লার বিরুদ্ধে? ছিল না কার বিরুদ্ধে? একটু বলতে পারবেন আমাকে? একটা পরিবার, একটা গোষ্ঠী, একটা দলের কিছু মানুষ ছাড়া সারা দেশের জাতির বিরুদ্ধে তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। আমরা ওই প্রতিশোধের রাজনীতিতে নাই। যে প্রতিশোধের রাজনীতি আমাকে কষ্ট দিয়েছে, দেশবাসীকে কষ্ট দিয়েছে—ওই প্রতিশোধের রাজনীতিকে আমরা হারাম মনে করি। রাজনীতি রাজার নীতি নয়, রাজনীতি ইনশাআল্লাহ হবে নীতির রাজা। সু-নীতি দিয়ে ইনশাআল্লাহ দেশ পরিচালিত হবে।</p>
<p>বলবেন যে আশ্বস্ত হবো কিভাবে? সবাই তো বলে। কিন্তু যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। আপনারা যে কথা দিয়ে কথা রাখবেন তার প্রমাণ কি? প্রমাণ আছে। সাড়ে ১৫ বছর—সমস্ত বিবেকবান বাংলাদেশি নাগরিক, বিশ্বের বিবেকবান মানুষ স্বীকার করতে বাধ্য হবেন—এই সময়কালে পুরাটা সময় জুড়ে সবচাইতে মজলুম দলের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর কোন দলের সিরিয়ালি ক্রমিক ধরে ১ থেকে ১১ জন সিনিয়র নেতাকে খুন করা হয় নাই। আর কোন দলের অফিস মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তালাবদ্ধ করে রাখা হয় নাই। আর কোন দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয় নাই। আর কোন দলের প্রতীককে হজম করার চেষ্টা করা হয় নাই। আর কোন দলকে বেদিশা হয়ে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় নাই। আর কোন দল বলতে পারবে না তাদের একজন নেতার বাড়িও বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গা হয়েছে। এটি একমাত্র জামায়াতে ইসলামী। ভূমি কমিশনের রিপোর্ট দেখেছেন? আমরা কথা কম বলি আর সবর বেশি করার চেষ্টা করি। এই রিপোর্টে উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা।</p>
<p>এত কিছুর পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শহীদানের রক্ত আর মজলুম জনগণের চোখের পানি কবুল করে আমাদের বুকের সন্তান যুবসমাজের নেতৃত্বে ২৪-এর আগস্টের বিপ্লব যখন সফল হলো—যেটাকে আমরা ৩৬ জুলাই বলে থাকি—সেদিন প্রথমেই আমরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলাম না, আমরা মিছিলে উত্তাল হলাম না, স্লোগান দিলাম না। আমরা আল্লাহ তাআলার এই নিয়ামতের জন্য সেজদায় পড়ে শুকরিয়া আদায় করলাম।</p>
<p>তারপরেই দেশবাসীকে ভাঙা বিধ্বস্ত অফিসে দাঁড়িয়ে আমরা জানিয়ে দিলাম—আমরা কারো উপর থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবো না। তবে যারা ভিক্টিম এবং ভিক্টিম ফ্যামিলি, তারা যদি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নেন আমরা তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কিন্তু আইন আমরা হাতে তুলে নেব না। আমরা কথা দিলাম, আর্থিকভাবে আমাদের চাইতে ক্ষতিগ্রস্ত আর কেউ হয় নাই। কিন্তু তাই বলে আমরা কারো কাছ থেকে চাঁদা নেবো না, চাঁদাবাজি করবো না। কারণ চাঁদা ভিক্ষার চাইতেও নিকৃষ্ট। ভিক্ষা হালাল কিন্তু চাঁদা হারাম। আমরা কথা দিয়ে কথা রেখেছি। আমরা বলেছিলাম আমরা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রান করবো না, মামলা-বাণিজ্য করব না। আমরা করি নাই, আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আপনারা শুনে অবাক হবেন—সারাদেশে হাজার হাজার, লাখ লাখ মামলা আমরা চাইলে করতে পারতাম, খুবই অল্প সংখ্যক মামলা করেছি। এর মধ্যে আটটা মামলায় আসামি মাত্র একজন করে। কারণ আমরা বলে দিয়েছিলাম একজন নিরীহ নাগরিকও যেন আমাদের মামলার আসামি না হয়। দ্বিতীয়জন খুঁজে না পাওয়ার কারণে একজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা জানিনা ন্যায়বিচার পাবো কিনা, কিন্তু আমরা নিশ্চিত আদালতে-আখেরাতে ন্যায়বিচার পাবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>আমরা জুলাই পরবর্তী চাঁদাবাজি এবং লুটপাটের রাজনীতি আমরা করি নাই। আমরা কি করেছি? আমরা প্রত্যেকটা শহীদ পরিবারে গিয়ে হাজির হয়েছি। হাজির হয়ে বলেছি—আজকে থেকে আমরাও আপনাদের পরিবারের সদস্য। আপনাদের সুখ আমাদের সুখ, আপনাদের দুঃখ আমাদেরও দুঃখ। আমরা সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করব। কতগুলা পরিবার এতই নিরীহ, নিরুপায়—'নুন আনতে পান্তা ফুরায়'—রিকশা শ্রমিক, রিকশা চালক, গার্মেন্ট শ্রমিক, দিনমজুর। তারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে ভাই আপনাদের জন্যে, আপনাদের অধিকার আদায় করার জন্য, দেশবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। যাদের অবদানের কারণে আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি, কথা বলতে পারছি, তাদের পরিবারের কাছে যখন গিয়েছি—চোখের কোণায় পানি দেখি নাই, আমি রক্তের ফোঁটা দেখেছি। মায়ের চোখে, বাবার চোখে, ভাইয়ের চোখে, বোনের চোখে, স্ত্রীর চোখে ও সন্তানের চোখে।</p>
<p>কোন কোন জায়গায় এতিম সন্তানেরা হাত ধরে তার চপলতার কারণে টেনে নিয়ে গেছে একটা দেয়ালের পাশে, গিয়ে বলে—'এই আমার বাবা'। বাবা তার মনের মতো করে বাবার ছবি এঁকেছে দেয়ালের মধ্যে। এরপরে আমাকে বলে—'দাদু, আমার বাবা কি ফিরে আসবে?' আহারে! এই অবুঝ এতিম শিশুর কাছে আমার কি জবাব ছিল? কোন জবাব দিতে পারি নাই। স্বজনহারা মানুষগুলার কাছে যখন গিয়েছি, তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে—মা জিজ্ঞেস করেছে, 'বাবা, স্বপ্নেও তো এখন আর ছেলেটাকে দেখি না। আমার ছেলেটার কি কোন খবর আছে? যদি সে মারা গিয়ে থাকে তাহলে তোমরা কি তার কবরটা আমাকে দেখায় দিতে পারবা? আশা ছাড়ছি না তাকে ফিরে পাওয়ার। যদি কবর থাকে আমাকে দাও। যদি আমার ছেলেকে হত্যা করা হয় তার কবরটা দেখিয়ে দাও। অন্তত তার কবরের মাটি ছুঁয়ে একটু চুমু খাবো, নিজেকে সান্ত্বনা দেব।' এই মায়ের জন্য আমাদের কি জবাব ছিল আপনারা চিন্তা করেন।</p>
<p>দফায় দফায় মামলা দিয়ে মানুষকে নাজেহাল তছনছ করা হয়েছে। এই সবকিছুর পরে জুলাই এসেছিল আল্লাহর নিয়ামত হয়ে। উচিত ছিল মজলুম মানবতার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, নিজেকে বদলানো এবং জাতিকে বদলানো। আফসোস, কেউ বদলানোর শপথ নিয়ে এগিয়ে গেল, আর কেউ আগের মতো আবার সেই ফেসিবাদী কায়দায় অপকর্ম শুরু করে দিল।</p>
<p>অবশ্য কুমিল্লার মানুষ শিক্ষিত এবং ভালো, এখানে কেউ চাঁদা-টাঁদা নেয় না কারো কাছ থেকে! আমি বহু জায়গায় গাড়ি থেকে নেমে কানে কানে গিয়ে জিজ্ঞেস করি ফুটপাতের দোকানদারকে যে এখানে কেউ চাঁদা চায় কিনা। দেখি চতুর্দিকে তাকায়, তাকাইয়া বলে—'জি না, আমার কাছে কেউ চাঁদা চায় না।' আমি বললাম, 'ভাই আমি তোমার মুখের দিকে তাকাইয়া প্রশ্ন করলাম, তুমি চতুর্দিকে তাকাইলা কেন?' তো দুই একজন ভয়ে ভয়ে বলে যে, 'আমার এই কথাটা কেউ শুনলে অসুবিধা আছে। চাঁদা নিয়ে আবার শাসন করে যায়, বলে যায়—সাবধান কাউকে বলতে পারবা না আমি যে চাঁদা নিয়েছি।' ফুটপাথের দোকানদার থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত কেউ তাদের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ওই শিল্পপতিদেরকে রাতে-বিরাতে দুইটায়-আড়াইটায়-তিনটায় ফোন করে—'আপনি অমুক না?' বলে 'হ্যাঁ'। 'আপনি কি খুব শান্তিতে বাসায় ঘুমাচ্ছেন?' বলে 'ভাই কি বলতেছ বুঝতেছি না, তুমি কে, আপনি কে?' 'আমি কে আপনার চিনার দরকার নাই, কালকে ছোট ভাইয়েরা যাবে, দেখা করবে। ওরা যা বলবে তাই করবেন। আর না হয় রাতের ঘুম হারাম করে দেব।' কেউ শান্তিতে নাই। আমরা কি চাই সেই ফেসিবাদ আবার ফিরে আসুক?</p>
<p>তাহলে এই ফেসিবাদকে বিদায় দিতে হলে কাকে দিয়ে বিদায় দিবেন? জুলাইয়ে যারা বুক পেতে যুদ্ধ করেছে জাতির জন্য, তাদের প্রয়োজন হবে।</p>
<p>বন্ধুগণ, সাড়ে ১৫ বছর অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দফায় দফায় আমরা সবাই এখানে যারা আছেন, সবাই জেলে গিয়েছি। কিন্তু আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি। আল্লাহর মেহেরবানীতে, আল্লাহর দেওয়া শক্তিতে, তার উপর ভরসা করে। এই দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে। আমি না হয় চলে গেলাম, এই নিরুপায় সহকর্মীদেরকে দেখবে কে? আমরা দেশ ছাড়ি নাই, দেশে ছিলাম, এখন আছি। আল্লাহ রেখেছেন, কথা দিচ্ছি—সুখে-দুঃখে আমরা দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যাবো না ইনশাআল্লাহ। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আল্লাহ যেন আমাদেরকে তৌফিক দেন আমরা থাকতে পারি।</p>
<p>যারা আজকে এই সমস্ত অপকর্মে জড়িত তারাও মজলুম ছিলেন একদিন। জোড় হাতে বলি—আপনি মজলুম ছিলেন, জালিম হতে চাইয়েন না। আপনি কেন জালিম হবেন? পরের দুঃখ তো আপনার বোঝার কথা। কিন্তু যারা এত কিছুর পরেও বুঝবেন না, তাদেরকে ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখ বুঝিয়ে দিতে হবে।</p>
<p>অনেকে এখন সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার জন্য। মায়েদের ব্যাপারে আমি আর কথা বলতে যাচ্ছি না। এখানে দুই যুবক তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাদের অভিব্যক্তি মায়ের প্রতি তারা ব্যক্ত করেছে। আমি শুধু একটা কথা বলবো—আপনারা এটা ছেড়ে দেন। আপনারা ছেড়ে যদি না দেন, মনে রাখবেন—আমরা আমাদের জীবনের চাইতে মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি বুঝি। আর যদি মায়ের গায়ে কেউ হাত দেয়, আর যদি হুংকার দেয় আমাদের মাদের কাপড় খুলে নেবে—আমরা তাদেরকে ছেড়ে কথা বলব না ইনশাআল্লাহ। ওরকম পরিস্থিতি যেখানেই হবে আমি যোদ্ধা, লড়াকু যুবকদেরকে বলব—তোমরা যারা বুকের রক্ত দিয়ে, বিশেষ করে এই ৩৫ শহীদের কুমিল্লার যুবকদেরকে বলব—তোমরা সেদিন যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে জাতির জন্য রাস্তায় নেমেছিল, আসো, এরকম বেয়াদবি কেউ করলে মায়ের ইজ্জত রক্ষা করার জন্য আরেকবার তোমাদেরকে লড়তে হবে।</p>
<p>বহু জায়গায় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে অমুক মার্কায় ভোট না দিলে ভোট সেন্টারে যাবেন না, গেলে খবর আছে। আমি মাদেরকে বিশেষভাবে বলব—তাদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে। আপনারা ওই মা, যারা শরিফ, উসমান, হাদিকে জন্ম দিয়েছেন; ওই মা, যারা আপনারা জন্ম দিয়েছেন আবু সাঈদকে। আবু সাঈদ বলেছিল, 'আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে একটা গুলি দে।' আপনারা সেই মা। যদি কেউ ভয় দেখাতে আসে, চোখে চোখ রেখে বলবেন—'এটি আমার অধিকার, এটি আমার দায়িত্ব। ভোট দিতে আমি যাব, তুমি পারলে ঠেকাবা।' তারা বিড়ালের মতো পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আছি, আমরা আছি মায়েদের সাথে আছি।</p>
<p>একটা ক্লাস আজকে সামান্য মানবতা এবং ভদ্রতা ভুলে গেছে। আজকে আমি ফেনীতে গিয়েছিলাম। শহীদ পরিবারের মা এবং বাবারা, ভাইয়েরা, বোনেরা সেখানে এসেছিল। সন্তানরা এসেছে। আমি তাদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করার এক পর্যায়ে একজন বয়স্কা মা হঠাৎ করে এসে আমাকে জড়ায়ে ধরছেন, উনি কান্না শুরু করেছেন। আমি তো তাকে ছুড়ে মারতে পারি না। তিনি তো জাতির মা, আমার মা। তাকে সম্মান করা আমার দায়িত্ব। সেটা নিয়ে এক শ্রেণীর ইতর দেখলাম বুলিং শুরু করেছে। তোদের কি মা নয়? জুলাইকে তোরা স্বীকার করিস না? যদি জুলাইকে ধারণ করিস তাহলে এমন একজন মাকে কেন তোরা অপমান করছিস?</p>
<p>সম্মানিত বন্ধুগণ, এখানে যুবকরা আছেন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি—কোন যুবকের হাতে কোন বেকার ভাতা আমরা তুলে দেব না। আমাদের যুবকরা বেকার ভাতা খাওয়ার জন্য লড়াই করে নাই। তারা লড়াই করেছে তাদের কাজের অধিকার পাওয়ার জন্য। আমরা প্রত্যেকটা যুবকের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটা মেয়ের হাতকে আমরা দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো। তারপরে মর্যাদার কাজ তাদের হাতে তুলে দেবো। সেদিন প্রত্যেকটা নাগরিক, যুবক-যুবতী বলবে—'আমি বাংলাদেশ। আমাকে দেখে চিনে নাও বাংলাদেশ কি।' আমরা সেই সম্মানের জায়গায় যুবসমাজকে বসাতে চাই। যুবসমাজ প্রস্তুত? যারা যুবক হাত তুলেন। ওমা! সবাই তো দেখি যুবক! তাইলে যাও, আমিও তোমাদের সাথে যুবক ইনশাআল্লাহ। যুবকেরা বাঘ, সিংহ, পর্বত কাউকে ভয় করে না, শুধু আল্লাহকে ভয় করে আর আল্লাহর উপর ভরসা রাখে। জাতির মুক্তির পথে যত বাধা আসবে সেটা যদি হিমালয় পর্বতের মতো হয়, মহান আল্লাহর কাছে তৌফিক চাই আমরা যেন সেটাও মাড়িয়ে সামনে অগ্রসর হতে পারি।</p>
<p>আমরা কথা দিচ্ছি—আল্লাহ যদি আমাদেরকে এই দেশ সেবার দায়িত্ব দেন, আমরা চাঁদাবাজের কোন অস্তিত্ব রাখবো না। আমরা দুর্নীতিবাজদের অস্তিত্ব রাখবো না। হায় হায়, এখন তো সবাই বিপদে পড়ে গেছে। এখন কি হবে?</p>
<p>চাঁদাবাজ যারা তাদেরকে বলছি—ভাই এটা হারাম। এই কাজ ছেড়ে দাও। যা করেছ তওবা করো। পারলে সবার হক ফেরত দাও। এরপরে তোমাদের যদি কিছু না থাকে, আমাদেরকে আল্লাহ যা রিজিক দিয়েছেন তাই ভাগ করে তোমাদের সাথে খাব। তবু আল্লাহর রাস্তায় তোমরা চাঁদাবাজি করো না। আমরা তোমাদেরকে শিক্ষা দিব, প্রশিক্ষিত করব। তোমাদের হাতেও ইনশাল্লাহ মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তোমরা গর্বের সাথে বলবা—'আমি আর চাঁদাবাজ নই, আমি দেশ গড়ার কারিগর।'</p>
<p>দুর্নীতি মানুষ দুই কারণে করে—একটা লোভ, আরেকটা বাধ্য হয়ে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন, আমরা জানি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো এমন যে এর উপর জীবন ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। আমি আপনি রাষ্ট্রের সার্ভিস নিবেন আর তাকে সম্মানের সাথে বাঁচতে দিবেন না, ব্যবস্থা করবেন না—এই রাষ্ট্রের এরকম কেউ বাধ্য হয়ে যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি দেওয়ার কোন অধিকার নেই। তাকে সম্মানের সাথে বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে। সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সব মিলেই হচ্ছে আমাদের কর্মসংস্থান। আমরা কথা দিচ্ছি এই সব ক্ষেত্রে ইনসাফ কায়েম করা হবে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>আরেকটা জিনিস আমরা সাফ করে বলতে চাই। আমরা সমাজে ইনসাফ কায়েম করব। সেই ইনসাফ—একজন সাধারণ শ্রমিক অপরাধ করলে তার যে আইনি বিচার হবে, যে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী যদি একই অপরাধ করেন তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। একই আইনে, একই অপরাধের একই শাস্তি তাদেরকেও ভোগ করতে হবে। বরঞ্চ অভাবের তাড়নায় যদি সাধারণ মানুষ কিছু করে সে মাফ পেয়ে যাবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসা লোকটির অবশ্যই তিনি কোন দায়মুক্তি পাবেন না।</p>
<p>আরেকটা কথা পরিষ্কার করতে চাই। আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর দেখতে চাই না। রাজার ছেলে রাজা হবে—যোগ্যতা থাকুক কিংবা না থাকুক; রানীর মেয়ে রানী হবে—যোগ্যতা থাকুক কিংবা না থাকুক—এই রাজনীতি বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ফেলে দিয়েছিল। এই রাজনীতি দুর্নীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এই রাজনীতি মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমরা সেই শিক্ষা, সেই ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। মেধা থাকলে, যোগ্যতা থাকলে একজন রিকশাচালক ভাইয়ের সন্তানও হবে ইনশাআল্লাহ এদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাকে বঞ্চিত করার অধিকার কারোই থাকবে না। আমরা সেই দেশটাই গড়ার স্বপ্ন দেখছি।</p>
<p>মা-বোনদের ব্যাপারে স্পষ্ট বলতে চাই—আপনাদেরকে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। ধোঁকাবাজরা এই ভয় আপনাদেরকে দেখাচ্ছে। আর যারা তাদের কাপড় তুলে নেওয়ার কথা বলে—আপনি কখনো এই সমস্ত দুর্বৃত্তদেরকে বিশ্বাস করবেন না। বরঞ্চ মা হিসেবে আপনাদেরকে যারা সম্মান দিতে চায়, আপনারা তাদের জন্য বুক ভরে দোয়া করবেন, এটা আমাদের বিশ্বাস। আপনার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একজন বোন, আপনারাও দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, সে তার পছন্দের কাপড় পরে হঠাৎ করে এক সাংবাদিকের মুখোমুখি। সাংবাদিক বন্ধুটি তাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে, 'আপনি আগামী শাসন ক্ষমতায় কারে দেখতে চান?' তিনি বলেছেন, 'জামায়াত।' 'বলে জামায়াত কেন দেখতে চান?' 'জামায়াত আসলে দেশটা ঠিক হবে।' 'বলে যে তাইলে তো এই কাপড় পড়ে চলতে পারবেন না?' 'বলে যে না পড়ব না। অন্য কাপড় আপনাকে পড়তে হবে?' 'তাই পড়ব।' এরপরে জিজ্ঞেস করেছে সাংবাদিক বন্ধুটি, 'জামায়াতের কোন জিনিসটা আপনার ভালো লাগে?' 'জামায়াত আমার ভালো লাগে।' কেন? এই আস্থার ভিত একদিনে তৈরি হয়নি। মা-বোনেরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন এদের হাতেই আমাদের ইজ্জত নিরাপদ থাকবে। মাথা গরম হওয়ার এটাই কারণ, আর কোন কারণ নাই। শরীরের উপর হাত দিতে পারবেন, চাবুক বসাইতে পারবেন, সন্ত্রাস করতে পারবেন—কিন্তু মনে রাখবেন মনের উপরে কোন চাবুক চলে না।</p>
<p>আমরা মাদেরকে কথা দিচ্ছি—শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা সবকিছু আপনাদের জন্য নিশ্চিত করা হবে। আমরা আমাদের পলিসি ডিক্লেয়ার করেছি। মাস্টার্স পর্যন্ত মায়েরা ইনশাআল্লাহ সরকারি খরচে লেখাপড়া করবেন। এখন ভাইয়েরা মন খারাপ করছেন নাকি? আমরা কি দোষ করলাম? না দোষ করেন নাই। উনাদের গুণাহের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এটা আমরা করছি। আচ্ছা কেউ কি হাত তুলবেন, যেইখানে আপনার এই বয়সে আপনি আপনার গর্ভে একটা বাচ্চা ধারণ করেছেন? এরকম কেউ আছেন? নো বডি। কেউ নাই। অসম্ভব। পুরুষ তার গর্ভে বাচ্চা ধারণ করতে পারবে না। আচ্ছা বেবিটা জন্ম নিয়েছে, তারপরে বুকের দুধ, নিজের বুকের দুধ কেউ খাইয়েছেন এরকম কোন পুরুষ এখানে আছেন? নাই। তাইলে মা। মা-ই। মায়ের তুলনা মা। আবার বলবো—মায়ের তুলনা মা। মা-ই। মায়ের তুলনা অন্য কারো সাথে হবে না। এইজন্যই মাকে সম্মান করতে হবে। তাই মায়েরা ঘরে থাকবেন ইনশাল্লাহ ইজ্জত এবং নিরাপত্তার সাথে। রাস্তায় যখন চলাচল করবেন তখন তাদের ইজ্জত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে। আর যখন তারা কর্মস্থলে যাবেন তখন তারা ওই ডিগনিটি এন্ড সিকিউরিটি—সম্মান আর নিরাপত্তার সাথে তারা ইনশাল্লাহ কাজ করবেন। সেদিন মাও গর্ব করে বলবেন—'আমিও বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশটাই চেয়েছিলাম।' এই বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>এই রাষ্ট্র কোন পলিটোক্রেটিক রাষ্ট্র হবে না। রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে, দলীয় আনুকূল্য দেখে কাউকে এখানে মূল্যায়িত করা হবে না। রাষ্ট্র হবে মেরিটোক্রেটিক। যার যোগ্যতা আছে এবং যার দেশপ্রেম আছে—সে কোন ধর্মের এটা দেখার বিষয় নয়। সে দেশের নাগরিক এটাই যথেষ্ট। তাকে সেই জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হবে। দল-ধর্মে কোন ব্যবধান আমরা রাখবো না। আমরা জাতিকে বিভক্ত করতে দেব না। আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।</p>
<p>প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা আছেন তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ—আপনারা আবার সবার মিলেই তো বাংলাদেশ। আসুন আমরা সবাই যার যার জায়গা থেকে বিবেকের আলোকে, আইনের গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা চলি। আমরা প্রশাসনের কারো কাছে কোন আনুকূল্য চাই না। কোন দলের আনুকূল্য না করে ১৮ কোটি মানুষের আনুকূল্য করুন, তাইলে আমরা আপনাদের প্রতি থ্যাংকফুল থাকব। অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমরা আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাবো। আমরা দেখছি অনেকে সেই দায়িত্ব অবিনয় করেছেন, উলটপালট করেছেন, তছনছ করেছেন। এখন তাদের অনেকের জীবনটাই তছনছ হয়ে গিয়েছে। তারা এদেশের নাগরিক, তাদের জন্য কষ্ট লাগে। কেন এই অপকর্ম করতে গেছিলেন? অন্যকে সন্তুষ্ট করতে, নাকি নিজের আখের গোছাতে? কিছুই তো আপনার কাজে লাগল না। এখন আমি আশা করি যারা অতীতে বাধ্য হয়ে এ সমস্ত কাজ করেছেন, তারা এবার জনগণের পক্ষে দাঁড়াবেন ইনশাআল্লাহ। তারা ১৮ কোটি মানুষের হবেন।</p>
<p>মিডিয়ার ব্যাপারে দুঃখে কথা বলতে চাই। মিডিয়া জাতির চোখ, জাতির দর্পণ—আয়না। আর মিডিয়ার বন্ধুরা হচ্ছেন—তারা কি বলে মিডিয়ার বন্ধুদেরকে? হ্যাঁ বলবেন না কেউ? জাতির বিবেক। মিডিয়ায় অনেক কষ্টের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। জোর করে দেশটাকে অন্যায়ের দিকে কেউ যেন নেওয়ার চেষ্টা না করেন। কেউ যেন দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা না করেন। কেউ যেন চাঁদাবাজদের পক্ষ না নেন। কেউ যেন অন্যায়ের সমর্থন না করেন। আমরা চাই আপনারা ন্যায়ের পক্ষে থাকেন, কল্যাণের পক্ষে থাকেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকেন। আমরা আপনাদেরকে স্যালুট দেবো। দুই একটা হাউজের কথা হয়তো এসেছে। আপনারা ভুলে যান। সাংবাদিক যারা আছেন সত্যটা অনেক সময় আপনারা তুলে ধরেন, কিন্তু হাউজ এটা উলটপালট করে দেয়। এটা আমরা জানি, আমরা বুঝি। আমাদের মূল অনুরোধটা হাউজের কাছে। এই কষ্ট করা সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা জানের ঝুঁকি নিয়ে নিউজ কাভার করে, ফাইট করে—তারা আসলে যোদ্ধা। সেই যোদ্ধাদেরকে আমরা সম্মান করি। তারা আমাদের কাছে আমানত। তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বন্ধু। আপনারা আপনাদের হাউজগুলাকে বুঝাবেন। হাউজের যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, পলিসি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদেরকে বুঝাবেন—যে আমরা তো মানুষের কাছে যাই, মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হয়। এমন কিছু করলে, যেটাতে মানুষের আস্থা উঠে যায়, মানুষের কষ্ট হয়ে বিরক্তির উদ্রেক হয়ে—সেটা থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিন। আমরা আশা করব আমরাও চেষ্টা করব, আপনারাও চেষ্টা করেন।</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, কথা আর আমি বাড়াচ্ছি না, এখানেই শেষ। আসুন যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ, আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা বাংলাদেশ, রাজনীতি পরিবর্তনের বাংলাদেশ, ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ—এই বাংলাদেশের জন্য আমরা দুটি ভোট দেবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>প্রথম ভোটটি সংস্কারের পক্ষে—'হ্যাঁ' ভোট দেবো। 'হ্যাঁ' মানে আজাদি, 'না' মানে গোলামি। এবার আপনারা বলুন—গোলামি না আজাদি? আমরা কিসে ভোট দেবো? আমরা দিব, সকলকে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবো। যারা সংস্কার চায় না, বস্তাপচা রাজনীতি চায়, আবার ফেসিবাদী কায়দয় দেশ চালাতে চায়—তারা তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করবে। আমরা আশা করব তারা সাহস করে বলুক যে তারা 'না' ভোট দিবে, তাহলে জাতি বুঝতে পারবে। আর 'হ্যাঁ' দিলেও বলুক আমাদের মতো যে আমরা 'হ্যাঁ' ভোট দেব।</p>
<p>দ্বিতীয় ভোটটি হবে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে। কুমিল্লায় ১১টি আসন—৩০০ আসনের মধ্যে ১১ আসন কুমিল্লায়। আমরা এখন ১১ দলের পক্ষ থেকে যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে, এক এক করে তাদের হাতে ইনশাআল্লাহ আমরা জনতার প্রতীক তুলে দেবো। আবারও বলছি—জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই ১৮ কোটি মানুষের যারা বিজয় চান এবং তাদের আমানত রক্ষা করবেন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এখন তাদের হাতে আমরা প্রতীক তুলে দেব ইনশাল্লাহ।</p>
<p>১. <strong>কুমিল্লা-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি):</strong> মাশাল্লাহ, জনতার খেদমত করতে করতে লোকটা গলা ভেঙ্গে ফেলেছে, দোয়া করবেন। ইনসাফের প্রতীক। প্রতীক আছে? কিসের প্রতীক? আরো জোরে। ১২ তারিখ সকাল-সন্ধ্যা সারাদিন ইনশাল্লাহ বিজয় হবে।</p>
<p>২. <strong>কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):</strong> জনাব মোল্লা। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি যেন 'মোল্লা' নামের সম্মান রক্ষা করতে পারেন আপনারা দোয়া করবেন। যেন তার দায়িত্বের ভার আল্লাহ তাকে বহন করার তৌফিক দান করে। তার প্রতীক কি? ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ বিজয়মালা।</p>
<p>৩. <strong>কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):</strong> ইউসুফ হাকিম সোহেল। মাশাল্লাহ, এই হাকিম সাহেব যাতে হেকমতের সাথে এবং সততার সাথে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে আল্লাহ তাকে তৌফিক দান করুক। তার হাতে তুলে দিলাম আমীর সাহেবের প্রতীক দাড়িপাল্লা।</p>
<p>৪. <strong>কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার):</strong> সাংঘাতিক গরম মাঠ। এবার মাশাল্লাহ যুবকদের অন্যতম আইকন হাসনাত আব্দুল্লাহ যুদ্ধে চোখ রাঙ্গাইয়া জয় করে ফেলেছে। মাশাল্লাহ, তার হাতে আমরা তুলে দিলাম শাপলাকলি। প্রতীকটা কি? ১২ তারিখ সকাল-সন্ধ্যা বিজয় হবে।</p>
<p>৫. <strong>কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):</strong> ডক্টর মোবারক হোসেন। আগেইটা ধরো, এরপরে হাত নাড়াবা। প্রতীকটা কি? জোরে জোরে। সাবেক ভিপি। ইনশাল্লাহ ১২ তারিখ বিজয়মালা।</p>
<p>৬. <strong>কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর):</strong> এই আসনের কাণ্ডারি হবেন ইনশাআল্লাহ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি শুধু বিয়ের কাজিগিরি করবেন না, ইনসাফ কায়েম করবেন, কাজী হবেন ইনশাআল্লাহ। প্রতীক কিরে ভাই? আরো জোরে। ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>৭. <strong>কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):</strong> মাওলানা সুলাইমান হোসেন (খেলাফত মজলিস)। এই যে ঘড়ির কাঁটায় দেশ চলবে ইনশাল্লাহ, আর সময়ের অপচয় করতে কাউকে দেয়া হবে না। মার্কাটা কি?</p>
<p>৮. <strong>কুমিল্লা-৮ (বরুড়া):</strong> অধ্যক্ষ ডক্টর শরিফুল আলম হেলাল। অসংখ্য অসংখ্য মানুষের ওস্তাদ, দেশে-বিদেশে তার শাগরেদের কোন অভাব নাই। তিনি পীর নন কিন্তু পীরের মতোই তার মর্যাদা তার ছাত্রদের কাছে। শক্ত করে ধরেন, আস্তে ধরলে জাতির ভার বহন করতে পারবেন না। দেখেন না লোকটা আলহামদুলিল্লাহ পাকতে পাকতে লাল হয়ে গেছে।</p>
<p>৯. <strong>কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ):</strong> ওটা তো ওখানে দিয়ে এসেছি। জি, উনাকে শুধু আমরা হাত ধরে পরিচয় করে দিলাম। জিন্দাবাদ। এখানে আসে নাই। এখানে আমরা মনে করলাম যে একজন আছে ডক্টর সিদ্দিকী।</p>
<p>১০. <strong>কুমিল্লা-১০:</strong> ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, তাকে ওখানে দিয়ে এসেছি ইনশাল্লাহ—ইয়াসিন আরাফাত। তার বিজয় হবে ইনশাল্লাহ। আপনারা সবাই দোয়া রাখবেন।</p>
<p>১১. <strong>কুমিল্লা-১১:</strong> ওহ তাহের ভাই চলে গেছেন? দেন আমার হাতে দেন। আমিই—ডক্টর তাহের (জনতার হাসি)। আমি কে? সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মার্কা কি? (জনতা- দাঁড়িপাল্লা) আরো জোরে। ১৪ (চৌদ্দগ্রাম) ঘরে ঘরে, ১২ তারিখ বিজয় হবে। বিজয় হবে, তাহের ভাই জিতে যাবে। ইনশা আল্লাহ।</p>
<p>এবার আসেন বিদায় নেই। লিল্লাহি তাকবীর—আল্লাহু আকবার। ইনকলাব ইনকলাব—জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।</p>
<p>আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=PZPuFNRZhB8">ভিডিও বক্তব্য</a></p>
]]></content:encoded></item><item><title><![CDATA[লাকসামের নির্বাচনি জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণ]]></title><description><![CDATA[(সঞ্চালক: ছাত্র-শিশুদের বন্ধু, তরুণ-যুবকদের সহযোদ্ধা, মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম সেনাপতি, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখছেন।)
আমীরে জামায়াত: প্রিয় লাকস...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-laksham-election-rally</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-laksham-election-rally</guid><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[Jamaat]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Sat, 31 Jan 2026 05:26:37 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769837144572/f401185d-53d6-44f9-9e80-5a1975e79b1f.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p><em>(সঞ্চালক: ছাত্র-শিশুদের বন্ধু, তরুণ-যুবকদের সহযোদ্ধা, মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম সেনাপতি, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখছেন।)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> প্রিয় লাকসামবাসী, আজকে যাদের কারণে এখানে দাঁড়িয়েছি, আমি সেই যুব সমাজের প্রতীক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদ কাইয়ুম—তাদের হাতে ফুলটা উপহার দিয়ে দিলাম, তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম। জুলাই যোদ্ধাদেরকে উৎসর্গ করলাম, জুলাই শহীদদেরকে উৎসর্গ করলাম। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভার বহন করে চলব। আপনারা দোয়া করবেন। ফি আমানিল্লাহ, যাও। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p>আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।</p>
<p>ইন্নালহামদুলিল্লাহ, ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদ।</p>
<p>কুমিল্লার দুইটি আসন—লাকসাম এবং মনোহরগঞ্জ, ওইদিকে নাঙ্গলকোট এবং লালমাই—এই দুই আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি অক্ষ 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ'-এর পক্ষ থেকে যাদেরকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভার সম্মানিত সভাপতি; সভামঞ্চে উপবিষ্ট ১১ দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ; প্রিয় লাকসামবাসী ভাই ও বোনেরা; সাংবাদিক বন্ধুগণ; শহীদ পরিবারের গর্বিত সদস্যবৃন্দ; জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ—</p>
<p>আমি আমার বক্তৃতার সূচনায় সেই সমস্ত শহীদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, ২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত তৎকালীন সরকার যাদেরকে নির্মমভাবে খুন করেছে। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তাদের পরিবারকে আল্লাহ প্রশান্তি দান করুন, সবর করার তৌফিক এনায়েত করুন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যারা আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ তাদেরকে সুস্থ করে দিন।</p>
<p>দফায় দফায় যারা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে যাদেরকে আপনজনের বুক থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা হয়েছে—কেউবা ফিরে এসেছেন বছরের পর বছর আয়নাঘরে থেকে, দুঃসহ যাতনা ভোগ করে; আবার কেউ এখনো ফিরে আসেননি। এটা ধরে নেওয়ার আর কোন কারণ থাকছে না—যারা ফিরে আসেননি তারা এই জগতে আছেন—এ আশাটাও নিভে গেল। ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর যারা বেঁচে ছিলেন তারা ফিরে এসেছেন। কিন্তু যারা ফিরে আসেননি তাদের ভাগ্যে কি হয়েছে আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। আমরা যখন গুম হওয়া পরিবারগুলোর কাছে গিয়েছি, তখন তাদের মা-বাবা, তাদের স্ত্রী, ভাই-বোন, অবুঝ সন্তানেরা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করেছে—'আমাদের প্রিয়জন কি বেঁচে আছে? আপনারা কি তার কোন খবর জানেন?' আমরা বলেছি, আমাদের কাছে কোন খবর নেই। শিশুরা অনেক সময় হাত ধরে টেনে একটা দেয়ালের পাশে নিয়ে গেছে। আপন মনে ছবি এঁকেছে—বাবার ছবি। ছবি দেখিয়ে আঙুল দিয়ে বলতেছে, 'এ আমার বাবা। আমার বাবা কি আর কোনদিন ফিরে আসবে?' এই অবুঝ শিশুর কাছে আমাদের কোন জবাব ছিল না। এত নিষ্ঠুর, এত নির্মম কীভাবে মানুষ হতে পারে?</p>
<p>পট পরিবর্তনের পর সাবেক গণভবনকে এখন 'জুলাই স্মৃতি জাদুঘর' করা হয়েছে। সেখানে একটা ডামি প্রতীকী আয়নাঘর বানানো হয়েছে। আমার দেখার সুযোগ হলো। অবশ্য আমিও আয়নাঘরের কাছাকাছি ছিলাম। প্রথমবার আমাকে গ্রেফতার করার পরে সেই আচরণই আমার সাথে করা হয়েছে। সাড়ে ১৫ মাস তাদের কবলে থেকে আল্লাহ আমাকে মুক্ত করেছিলেন। পরপর তিন তিনবার এরকম স্বৈরশাসনের হাতে আমি বন্দি হয়েছিলাম। আমার কোন আফসোস নাই। বন্দি আমি একা হই নাই, আমার লক্ষ সহকর্মীও বন্দি হয়েছিল। কাজেই আমি ছিলাম মাত্র তাদের একজন। সেই আয়নাঘরের প্রতীকী স্থাপনা যখন দেখলাম, আমি অবাক হয়ে গেলাম যে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির এই মানুষগুলো এখানে পা লম্বা করে তো ঘুমানোর কোন সুযোগ ছিল না। সোজা একটা কবরের সাইজ। ওখানে পেশাব, ওখানে পায়খানা, ওখানে গোসল, ওখানে থাকা, ওখানে খাওয়া। এ মানুষগুলোর জন্য বেঁচে থাকাই ছিল একটা মহাযুদ্ধ।</p>
<p>আমার সম্মানিত ভাইয়েরা, আপনারা কি চান বাংলাদেশ আবার ফ্যাসিবাদের আমলে চলে যাক? তাহলে ৫ তারিখের পট পরিবর্তন হওয়ার পরে যারা জুলাই মানে না, যারা সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি—তাদেরকে দিয়ে কি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? না। ১৩ তারিখ নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ যে মুখিয়ে আছে—যারা এখনই ফ্যাসিবাদের আচরণ করে চলছে জাতির সাথে, তাদেরকে দিয়ে কি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না। আপনারা মনে হয় একটু ভয় পাচ্ছেন নাকি? তা আওয়াজ এত ক্ষীণ কেন? ওদেরকে দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারবেন? ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে, তাদেরকে বেছে নিতে হবে। এ সাহস আল্লাহর মেহেরবানীতে জামায়াতে ইসলামীর আছে।</p>
<p>দফায় দফায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা অভিযোগে, সাজানো সাক্ষী, পাতানো আদালত দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াত কারো কাছে মাথা নত করে নাই, কারো দয়া-অনুকম্পা কামনা করে নাই। হাজার কর্মী-সহকর্মীকে হারিয়েছে, মাথা নত করে নাই। কোনো চোখ রাঙ্গানিকে পরোয়া করে নাই, দেশ ছেড়েও পলায় নাই। ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ, আছি ইনশাআল্লাহ, থাকবো। এ দেশ আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোন মামা-খালুর দেশ নাই, 'বেগমপাড়া' নাই। আমাদের পাড়া একটাই—এটি আমার গর্বের বাংলাদেশ।</p>
<p>শুধু কি তাই? হাঁচি-কাশি হলেও ওই নেতারা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যায়। চিকিৎসার জন্য দেশের প্রতি কোন আস্থা নাই। অথচ তারাই একসময় কেউ না কেউ বাংলাদেশ শাসন করেছেন। তো সেই জায়গাটা গড়লেন না কেন? হাঁচি-কাশির চিকিৎসার জন্য এখন বিদেশে যেতে হয় কেন? কেন এই দেশের উপরে আস্থা নাই? হ্যাঁ, এই দেশটা হচ্ছে আপনাদের টাকা বানানোর মেশিন। জনগণের টাকা হাতিয়ে নেবেন, লুণ্ঠন করবেন, ব্যাংক ডাকাতি করবেন, শেয়ার বাজার লুণ্ঠন করবেন, তারপরে সমস্ত টাকা বিদেশে পাচার করে দেবেন। নিজের ছেলেমেয়েকে বিদেশের মাটিতে লেখাপড়া করাবেন। এখন তো বিয়ে-শাদীও অন্য জাতির সাথে হচ্ছে, আপত্তি নাই। আপত্তি এক জায়গায় যে, বাংলাদেশের কোন মেয়ে এবং ছেলে আপনাদের পছন্দ হয় না। বড় ভালোবাসেন দেশটাকে! নিজে পড়ে আছেন ইনকাম জেনারেশনের জন্য অবৈধভাবে। আপনি আসল দেশপ্রেমিক? দেশপ্রেমিকের অভিনয়, আমরা এই ভণ্ডামি আর দেখতে চাই না। দেশপ্রেমিক হলে সকল কাজে দেশপ্রেমের পরিচয় বাস্তবে দিতে হবে, মুখে নয়। মুখের কথা জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না অনেকের। যারা বাস্তবে প্রমাণ করেছে মরণে-জিনে, সুখে এবং দুঃখে দেশ এবং জনগণের পাশে আছে—ইনশাআল্লাহ জনগণ তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।</p>
<p>আজকে বাংলাদেশের সর্বত্র ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে আধিপত্যবাদবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী, দুর্নীতিবাজবিরোধী, মামলাবাজবিরোধী একটা সমাজ বিনির্মাণের জন্য জনগণ আজ একাট্টা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় গণজোয়ার শুরু হয়েছে। দেখে অনেকে দিশাহারা। এখন আমার মারেও বেইজ্জত করে। মায়ের গায়েও বেদিশা হয়ে হাত দেয়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা আমাদের কাছে অনেক বেশি। মাদের গায়ে হাত দিবেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ছেড়ে কথা বলব না। মা তো আপনারও আছে। আগে আপনার মাকে সম্মান করুন, তাহলে বাংলাদেশের ৯ কোটি মাকেও আপনি সম্মান করতে পারবেন। যে নিজের মাকে সম্মান করতে পারে, সে দেশের প্রত্যেকটা মাকে সম্মান করতে জানে। আর যে নিজের মাকে সম্মান করার শিক্ষা পায়নি, সেই কেবল আমার মায়ের গায়ে হাত দিতে পারে।</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, মাথা গরম হওয়ার কারণ আছে। অবশ্য মাঘ মাস, এখন আরো শীত থাকার কথা ছিল, তাই না? শীত একটু কম, তারপরেও তো মিষ্টি মিষ্টি শীত আছে। তো আমি ওদেরকে জিজ্ঞেস করি—মাঘ মাসেই যদি মাথার চান্দি এত গরম হয়, চৈত্র মাসে তোমাদের চান্দিটা কেমন হবে? এটা গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে নিজের কর্মসূচি, বক্তব্য, পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবেন। জনগণ শুনবে, বিশ্বাস করবে কি করবে না—এটা জনগণের অধিকার। অন্যের কথা শুনতে হবে। যেমন নিজের কথা আপনার বলার অধিকার আছে, আপনাকে কেউ চাপা দিবে না, বাধ্য করবে না ভোট তাকে দিতে হবে—তাহলে আপনি অন্যকে বাধা দেন কেন? গণতন্ত্রের গালভরা বুলি আওড়াবেন আবার ফেসিবাদী কায়দার আচরণ করবেন—এই দুইটা একসাথে যায় না।</p>
<p>মাশাল্লাহ, ঘরে ঘরে এখন কার্ড বিতরণ হচ্ছে—নাম তার 'ফ্যামিলি কার্ড', তাই না? কোন জায়গায় এটার মূল্য ২ হাজার, কোন জায়গায় ৭ হাজার, কোন জায়গায় হজ, আবার কোন জায়গায় বলা হচ্ছে আমরা ৫০ লক্ষ দিব, আবার কোন জায়গায় বলা হচ্ছে আমরা ৫০ কোটি দেব। আবার এই ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে মায়ের হাতে, বাবার হাতে না! কি চমৎকার—এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত! আহ, বাংলাদেশের মানুষকে এত বোকা মনে করেছেন? সবাই নিজের বুঝটা ভালো করেই বুঝে। গরম হওয়ার কারণ হলো—মায়েরা এখন ওপেনলি বলে, 'আমরা অনিরাপদ, এই বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না। আমরা একটা নিরাপত্তার বাংলাদেশ চাই।' আমরা বিশ্বাস করি দাড়িপাল্লা এবং তার সঙ্গীরাই নিরাপত্তা দিতে পারবে।</p>
<p>এটাই মাদের অপরাধ। ওই যে আমি বলি না—এক বোন তার নিজের পছন্দের পোশাকে তিনি যাচ্ছেন কোথাও, সাংবাদিক বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করছে—'আগামীতে আপনি কোন ধরনের সরকার চান, কাকে চান?' তিনি সংক্ষেপে বলেছেন—'জামায়াত।' বলছে, 'আশ্চর্য, আপনি জামায়াতকে চান?' বলে—'হ্যাঁ, আমি চাইব।' 'জামায়াত হলে তো আপনি পোশাক পরতে পারবেন না?' বলে—'পরবো না। জামায়াত আসলে তো আপনার পোশাক পালটাতে হবে?' বলে যে—'হ্যাঁ, পাল্টাবো।' 'তাইলে আপনি জামায়াতকে চাচ্ছেন কেন বলেন তো?' এই বোনটি উত্তর দিয়েছে—'জামায়াত আসলে বাংলাদেশ ঠিক হবে।' এরপরে তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, 'জামায়াতের কোন কাজটি আপনার ভালো লাগে?' কয়—'জামায়াতই আমার ভালো লাগে।' এই যে মায়েরা তাদের নিরাপত্তার জন্যে, সম্মানের জন্যে, আস্থার জন্যে আজকে ১১ দলীয় নির্বাচনি অক্ষকে বাছাই করে নিছে—এতেই তাদের গায়ে এবং কলিজায় আগুন ধরে গেছে।</p>
<p>মনে রাখবেন, গায়ের উপর চাবুক মারতে পারবেন, কিন্তু মনের উপরে কোন চাবুক চলবে না। মনে রাখবেন, যে মায়ের দামাল সন্তানেরা '২৪-এ জগদ্দল পাথর, হিমালয় সমান ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, সেই সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়ে নাই, তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্য কোন চিন্তা করেন, এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না। সুতরাং নিজের ছাড়া কারো ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না। শেষ স্লোগান—'অচল'। আমার ভোট আমি দিব, তোমারটাও আমি দিব—না, এদিন এখন আর নাই। এখন আমারটা আমি দিব, তোমারটা তুমি দাও। আমার যারে পছন্দ আমি দিব, তোমার যারে পছন্দ তারে দাও। এর নাম হচ্ছে ডেমোক্রেসি, এর নাম হচ্ছে এসেন্স অফ ডেমোক্রেসি, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সেটা দেখতে চাই। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আমরা তার ব্যতিক্রম দেখছি।</p>
<p>যৌবনের তারুণ্যের শক্তি নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ অনেক কথা এ ব্যাপারে বলেছে, আমি আর রিপিট করতে যাচ্ছি না। আমি সবাইকে বলব—এ দেশটা সবার, শুধু আমার একার নয়। সাধারণ মানুষ, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন—আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একটা সভ্য দেশ গড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যেই দেশে মাঠে, ঘাটে, পথে-প্রান্তরে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয়, এটা কখনো সভ্য দেশ হতে পারে না। আমাদের অঙ্গীকার—আমরা চাঁদাবাজদেরকে সাহায্য করব। আপনারা বলবেন, 'আশ্চর্য, আপনারা কি আরো চাঁদা বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্য করবেন?' না। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাই—তোমরাও আমাদের সন্তান। চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। তোমাদের যদি খাদ্যের অভাব হয়, আল্লাহ আমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন আমরা ভাগাভাগি করে খাবো। তবুও হারামের দিকে হাত বাড়িও না। চাঁদা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দিও না। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবার ঘুম হারাম। এদের কারণে মানুষের অভিশাপের পাত্র হয়ে গেছো। তওবা করে এখান থেকে বের হয়ে আসো, আমরা তোমাদেরকে বুকে টেনে নেব। এরপরে আমরা কি করবো? তোমাদেরকে শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত করে আমরা তোমাদের হাতেও মর্যাদার কাজ তুলে দেবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>যুবক বন্ধুগণ, আমরা তোমাদেরকে কোন বেকার ভাতা দিব না। বেকার ভাতা দিয়ে আমরা তোমাদেরকে অসম্মান করতে চাই না। আমাদের যুবকেরা যারা লড়াই করে জীবন দিতে জানে অধিকারের জন্য, তারা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করে নাই। তারা করেছে লড়াই তাদের মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী হাতে কাজ পাওয়ার জন্যে। আমরা তোমাদেরকে কথা দিচ্ছি ভাই ও বোনেরা, তোমাদের হাতকে মানুষ, এই দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে আমরা গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। সেইদিন তোমাদের হাতে মর্যাদার কাজ আমরা তুলে দেব। তখন সবাই মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বলবা—'আমি বাংলাদেশ। আমাকে এই বাংলাদেশ অনেক কিছু দিয়েছে, এখন আমার প্রিয় দেশকে আমি দিতে চাই। আমি বেকার ভাতা খেতে চাই না।'</p>
<p>সম্মানিত বন্ধুগণ, এই দেশটা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকলের। আমরা মিলেমিশে ফুলের বাগানের মত এই দেশটাকে গড়বো ইনশাআল্লাহ। সকল ধর্মের মানুষ তার সকল প্রাপ্য অধিকার পাবে, তার জন্য তার লড়াই করার দরকার পড়বে না। কারণ আমরা সমাজে সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। সরকার দেখবে না তিনি কোন দলের কিংবা কোন ধর্মের। দেখবে তিনি যোগ্য কিনা আর তার মাঝে দেশপ্রেম আছে কিনা। এনাফ ইজ এনাফ, আর কিচ্ছু লাগে না। তিনি কাজ পাবেন, তিনি সম্মানের সাথে জীবন যাপন করবেন।</p>
<p>সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী—তাদেরকে বিভিন্ন স্তরে যে বেতন দেওয়া হয় এটা দিয়ে সম্মানের সাথে চলা কঠিন। এইজন্যই তারা অনেকে বাধ্য হয়ে ইলিগাল ইনকাম করেন, আর অনেকে লোভ বশত, নেশা বশত করেন। আমরা তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ সম্মানের বেতন স্কেল তাদের হাতে তুলে দেব ইনশাআল্লাহ। তারা ইজ্জতের সাথে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন, প্রশান্তির সাথে দেশকে জাতিকে তারা সেবা দিবেন ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>ভয় দেখায় অনেকে—এরা ক্ষমতায় আসলে সব তোমাদের হাত কেটে ফেলবে। আরে হাত সবগুলা কেটে ফেলবে—দেশ গড়বে কে? হাত সবগুলাকে আরো শক্তিশালী করা হবে ইনশাআল্লাহ। সুস্থ-সবল জাতি আমরা উপহার দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছি—শিশু তার মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় গর্ভবতী মা, পরবর্তীতে তার সন্তান পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। সচ্ছল কোন পরিবার যদি না নিতে চায় তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ দেব, নিজ খরচে যদি তারা চলতে চায়। কিন্তু এটি তাদের অধিকার। আবার দেশকে জাতিকে দিতে দিতে বয়সের শেষ প্রান্তে গিয়ে অনেকে ধুঁকে ধুঁকে মরে একটুখানি সুচিকিৎসার অভাবে। আমরা ঘোষণা দিয়েছি—রিটায়ারমেন্ট এইজের পরে এই বয়সের যারা থাকবেন তাদের দায়িত্ব দেশ এবং রাষ্ট্র নিবে ইনশাআল্লাহ। তবে সব দায়িত্ব এই ক্ষেত্রেও যারা সচ্ছল তারা না নিলে অভিনন্দন পাবেন, আর যাদের প্রয়োজন আছে তাদের পাওনাটা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে সবকিছু।</p>
<p>তাহলে কিভাবে হবে? হবে প্রত্যেক জেলায় কমপক্ষে একটা মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। যেখানে কমপক্ষে ৫০০ শয্যা থাকবে, আধুনিক সকল সরঞ্জাম এবং ফ্যাসিলিটি থাকবে। এর পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে—আল্লাহ তাআলা যদি বিজয়ে আমাদেরকে সাহায্য করেন—তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার চেষ্টা করব। যেখানে মানুষ ন্যায্য মূল্যে সেখান থেকে স্বাস্থ্য সেবা পাবেন, মানসম্মত। রাজধানীর দিকে হন্যে হয়ে ছুটতে হবে না। সেদিন যার ছুটার সামর্থ্য নাই তাকে মরতে হবে না নিজের ঘরে। ইনশাআল্লাহ তারা মিনিমাম চিকিৎসা পাবেন, ম্যাক্সিমাম চিকিৎসাও পাবেন। এই দুইটাই আমরা নিশ্চিত করার চিন্তা করছি। আপনারা দোয়া করবেন।</p>
<p>লাকসামের যে দাবিগুলো করা হয়েছে এটা মূলত একটা বিভাগ এবং জেলার দাবি। অনেক দাবি আপনাদের আছে। আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি। আমরা যখন লেখাপড়া করতাম মেডিকেল কলেজে তখন এই লাকসামের আমার দুইজন বন্ধু ছিল। জানিনা এখন কোথায় আছে। এক হাকিম সাহেবের এক ছেলে ছিল। আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু, আমার রুমমেট ডা. রুহুল আমিন—সে আট দিন মেডিকেল কলেজে ছিলেন, এখন আছেন কিনা আমি জানিনা। তা আমরা তাদের কাছ থেকে শুনতাম—'কত লাকসাম কত বাতি'। এটা ছিল লাকসামের পরিচয়। কারণ লাকসাম জংশনকে কেন্দ্র করে আলো ঝলমল ছিল এই এলাকাটা। এখন সেই জংশন নিজেই অন্ধকার। দাবির মধ্যে এটা নাই যেহেতু ওই সময় শুনেছি একটা মায়ার জায়গা এটার জন্য আছে। ইনশাআল্লাহ এই জংশনকে আধুনিক করে সবার জন্য উপযোগী এবং উপভোগ্য একটা জংশন হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। আর বাকি দাবি তো আছে, দোয়া করবেন। ন্যায্যতার ভিত্তিতে আপনাদের পাওনা যেন আপনাদের ঘরে আমরা পৌঁছে দিতে পারি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে এই তৌফিক দান করেন।</p>
<p>আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। এখন দুইজন প্রার্থী যাদেরকে ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাদের সামনে আমরা পেশ করছি। যাদের স্কন্ধে আমরা আশা করি যে দায়িত্ব অর্পিত হবে, মহান আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে, মাটি এবং মানুষকে ভালোবেসে তারা সেই দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের আস্থার মর্যাদা দিবেন। আমরা আশাবাদী জনগণ তাদের উপর আস্থা রাখবে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>এবার আমি লাকসাম এবং মনোহরগঞ্জের এই এলাকা নিয়ে গঠিত—এটা কুমিল্লা কত জানি? কুমিল্লা-৯। কুমিল্লা-৯ আসনের আমাদের মনোনীত প্রার্থী, ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী জনাব ডক্টর সৈয়দ সরোয়ার সিদ্দিকীর হাতে ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লা তুলে দিলাম। কী তুলে দিলাম? কি তুলে দিলাম? প্রতীক আছে? আছে। কোন সে প্রতীক? আরো জোরে। এখন থেকে ১২ তারিখ, সারাদিন, সকাল সন্ধ্যা—ইনশাআল্লাহ বিজয় হবে। ইনশাআল্লাহ মাশাল্লাহ, আল্লাহতালা কবুল করুন, বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবেন ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>এবার লাকসাম... ৮ নাকি এটা ১০? আলহামদুলিল্লাহ, আসো, জোরে ধরো। জাতির দায়িত্ব নিতে হবে, আলতো হাতে নয়, মজবুত হাতে নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা কুমিল্লা-১০ আসন—লালমাই এবং নাঙ্গলকোট—এই আসনে আমরা প্রার্থী হিসেবে দিয়েছি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, আপনাদের প্রিয় মানুষ, আপনজন ভাই ইয়াসিন আরাফাত। তার হাতে আমরা ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লা তুলে দিলাম। প্রতীক আছে? কোন প্রতীক? আরো জোরে। জোরে সোরে। এখন থেকে ১২ তারিখ, সারাদিন, সকাল সন্ধ্যা—বিজয়ের মালা ইনশাআল্লাহ। মাশাল্লাহ, জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।</p>
<p>আমরা বিদায় নেই। লিল্লাহি তাকবীর—আল্লাহু আকবার। ইনকলাব ইনকলাব—জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।</p>
<p>ভাইয়েরা, ভোট তো দিবেন দাড়িপাল্লায়। গণভোটে কি করবেন? (জনতা: হ্যাঁ) গোলামী না আজাদী? (জনতা: আজাদী)</p>
<p>ইনকলাব জিন্দাবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=88xk9IWNOIk">ভিডিও বক্তব্য</a></p>
]]></content:encoded></item><item><title><![CDATA[লক্ষ্মীপুর জেলার নির্বাচনি জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণ]]></title><description><![CDATA[(সঞ্চালক: এখন আমাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন আজকের এই জনসমুদ্রের সম্মানিত প্রধান অতিথি, মানবিক বাংলাদেশের অন্যতম নেতৃত্ব, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রাণপুরুষ আমীরে জামায়াত...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-the-election-rally-in-lakshmipur-district</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-the-election-rally-in-lakshmipur-district</guid><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[Jamaat]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Sat, 31 Jan 2026 05:17:28 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769836598460/84f87409-5f32-485f-9caf-5986f9114d16.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p><em>(সঞ্চালক: এখন আমাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন আজকের এই জনসমুদ্রের সম্মানিত প্রধান অতিথি, মানবিক বাংলাদেশের অন্যতম নেতৃত্ব, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রাণপুরুষ আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।)</em></p>
<p><em>(জনতার স্লোগান: নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার!)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের মানুষ খুবই ভালো। মেহমানদেরকে অনেক আদর করে, সম্মানও করে, কথাও শোনে। তাইলে এই যে সাংবাদিকরা এখানে দাঁড়িয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে, তাদেরকেও সাহায্য করে। তাই না? বলে না যে আপনারা বসেন। কেউ বলতে পারবে না যে আপনারা বসে যান। আমাদের কথাগুলো তারা জাতির কাছে, বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাবে, এজন্য তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আপনারা সবাই বসে যাবেন, আর এখান থেকে যারা বসতে পারবেন না, তারা দাঁড়িয়ে কথা শুনবেন। আপনারা কেমন আছেন সবাই?</p>
<p>আলহামদুলিল্লাহ। সমস্যা হয়ে গেল, এত জিনিস এখানে রাখা হয়েছে, হাত-পা নাড়া তো কঠিন হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। এগুলা বক্সের সামনে রাখলে হবে কিনা? আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আর হাত দিবো না এখানে। প্রিয় লক্ষ্মীপুরবাসী, আপনারা সবাই ভালো আছেন? আপনাদের সাথে আজকে কিছু কথাবার্তা বলবো। আমি বলবো, আপনারা জবাব দিবেন ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন ইনশাআল্লাহ আগামী মাসের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসন থেকে ১১ দলীয় নির্বাচনী অক্ষ—আমরা যেটাকে বলছি 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ'—এই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চারজন প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। তিনটি আসনে দাড়িপাল্লা, একটি আসনে শাপলাকলি।</p>
<p>প্রিয় লক্ষ্মীপুরবাসী, এটি এমন একটি ময়দান যে ময়দান শহীদের রক্তে ভেজা। এই ময়দানের সবগুলা সবুজ ঘাস রক্তে লাল হয়ে উঠেছে। একসময় লক্ষ্মীপুরের সবুজ ঘাস সব লাল হয়ে গিয়েছিল শহীদের রক্তে। আমরা শহীদ ডা. ফয়েজ আহমদসহ লক্ষ্মীপুরের সমস্ত শহীদদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। জুলাই যুদ্ধে যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন, তাদের সবাইকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমরা কথা দিয়েছিলাম আমরা জুলাই যোদ্ধাদেরকে আমাদের অন্তরে জায়গা করে দিব। আমরা কথা রেখেছি। আমরা জুলাইকে কবুল করে নিয়েছি। এই জুলাই এসে জনগণকে মুক্তি দিয়েছে। জুলাই এসেছিল বলেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। জুলাই হয়েছে বলেই আজকের এই স্টেজ দেখা যাচ্ছে। জুলাই হয়েছে বলেই এই ২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশন হতে যাচ্ছে।</p>
<p>জুলাইয়ের আগে আমরা রাজনৈতিক দলগুলা বহু চেষ্টা করেছি। জীবন দিয়েছি, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছি, জেলে গিয়েছি, পঙ্গু হয়েছি, ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছি। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে নাই। পরিবর্তন এসেছে আমাদের সন্তান-সন্ততির নেতৃত্বে। কেউ কেউ আছেন এদেরকে স্বীকার করতে চান না, তাদেরকে 'বাচ্চাকাচ্চা', 'নাতিপুতি' বলেন, তাদেরকে 'সাবাল' বলেন। আমি বড় বিস্মিত, আমি লজ্জিত। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, যাদের কারণে অনেকের দেশে ফিরে আসা, যাদের কারণে নির্বাচনের কথা বলা, যাদের কারণে দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখা—তারা তাদেরকে অস্বীকার করছেন! লজ্জা! লজ্জা! এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে উপকারের উপকার স্বীকার করে না, যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।</p>
<p>দেশবাসী রাজনীতির পুরানো বন্দোবস্ত দেখেছে। ৫৪ বছর দেখেছে সেই বন্দোবস্ত ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে, চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুড়েছে। সেই রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক—আপনারা চান? ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা সেই বাংলাদেশ আবার চান? আপনারা পরিবর্তন চান? পরিবর্তন চাইলে ওই যে লেখা 'পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ'। গণভোটে কি বলতে হবে? প্রথম ভোটটিতে 'হ্যাঁ'-তে সিল মারতে হবে। আপনারা সবাই 'হ্যাঁ' ভোট দেবেন। আপনারা দিলেই 'হ্যাঁ' পাস হয়ে যাবে না, প্রত্যেকটা মানুষকে 'হ্যাঁ' ভোটের সঙ্গী বানাতে হবে।</p>
<p>আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা কথা দিচ্ছি—জনগণের আস্থা যদি আমাদের উপর আসে, আমরা আশাবাদী আসবো ইনশাআল্লাহ—আমরা আস্থার প্রতিদান দেবো ইনশাআল্লাহ। জুলাই বিপ্লবের পরে আমরা বলেছিলাম আমরা কারো উপর থেকে প্রতিশোধ নেব না, আমরা নেই নাই। আমরা বলেছিলাম আমাদের দলের লোকেরা চাঁদাবাজ নয়, আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। আমরা বলেছিলাম আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতিকে আমরা ঘৃণা করি, দুর্নীতির সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। আমরা বলেছিলাম মজলুম ঠিক আছি, কিন্তু মামলাবাজি করবো না। মামলা দিয়ে মামলা-বাণিজ্য করব না, মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করব না। আমরা কথা রেখেছি। আমরা এবার কথা দিচ্ছি—জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোটকে, এই ঐক্যকে নির্বাচিত করে, আমরা কথা রাখবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>প্রথমত, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। আমরা পুরানো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করবো না। আমরা পিছনের দিকে দৌড়াবো না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই। যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য কোন দাবি জানাও নাই। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। আমরা তোমাদের হাতগুলাকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটি হাতে আমরা ইনশাআল্লাহ মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে—'আমি বাংলাদেশ। আমাকে দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কি জিনিস।' আমরা সেই বাংলাদেশটি গড়ে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। প্রস্তুত আছো যুবকরা? প্রস্তুত হয়ে যাও। যেইভাবে স্বৈরাচার তাড়ানোর জন্য সেদিন গর্জে উঠেছিলে, বাংলাদেশ গড়ে দেওয়ার জন্য সেইভাবে দাঁড়িয়ে যাও। আমরা সেই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেব ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>আমাদের এই ১১ দলীয় ঐক্য, যেটা নির্বাচনী ঐক্য, সেই ঐক্যে এবার ৬২% ক্যান্ডিডেট হচ্ছে যুবক। তাহলে বার্তা দিচ্ছি আমরা জাতিকে—এই দেশ হবে আগামীতে যুবকদের বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>প্রিয় এলাকাবাসী, এই আন্দোলনে যুবকরা যেমন লড়াই করেছে, আমাদের মেয়েরাও সমানতালে লড়াই করেছে। বরঞ্চ জুলাই শক্তি পেয়েছিল ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল। জুলাই সেদিন শক্তি ফিরে পেয়েছিল। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়াকে জাতি মেনে নিতে পারে নাই। মুগুর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী, লাঠিয়াল বাহিনী সবকিছুকে যুবক-যুবতীরা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এখন সেই একই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। একসময় যারা মজলুম ছিলেন, তারা কেন জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন আমরা বুঝতে পারি না। জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন জায়গায় মাদেরকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে। তারা এদেশের নাগরিক। তাদের অধিকার আছে ভোট চাওয়ার। তাদের অধিকার আছে তাদের আদর্শ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার। আপনি আপনার আদর্শ নিয়ে যান, আপনি চান—আমরা বাধা দেব না। আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে আপনারা দিবেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই দিচ্ছেন আপনারা হাত। আপনারা মাদেরকে কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। মর্নিং শোজ দ্য ডে। সকালের সূর্য দেখে বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের হালত দেখে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে।</p>
<p>মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়াকে জাতি ক্ষমা করে নাই, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল—আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন। আমরা অনুরোধ করবো, মেয়েদের গায়ে হাত দিবেন না, মেয়েদেরকে অপমান করবেন না। কারণ আপনারও মা আছেন। আপনার মাকে সম্মান করুন, তাহলে আপনি সারা দেশের মাদেরকে সম্মান করতে পারবেন। আর যে নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, এদেশের একজন নারীও তার কাছ থেকে সম্মান আশা করে না।</p>
<p>আপনারা দেখেছেন মাথা গরম হওয়ার কারণ আছে। এখন নারীরা তাদের নিরাপত্তার জন্য এই জোটকে, দাড়িপাল্লা মার্কাকে তারা বেছে নিতে চায়। একজন তরুণী তার পছন্দের পোশাক পড়ে বের হয়েছেন, একজন সাংবাদিক মাঝেমধ্যে ওই যে রিএকশন নেয়—'ভোট দিবেন কারে?'—তাকে জিজ্ঞেস করেছে, 'আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় কাকে দেখতে চান?' তিনি বলেছেন, 'জামায়াত।' 'কেন?' বলে যে, 'জামায়াত আসলে দেশটা ঠিক হবে।' সাংবাদিক বললেন, 'আপনার এই পোশাক তো আপনি পরতে পারবেন না।' তরুণী বললেন, 'পরবো না। পোশাক বদলাতে হবে? বদলাবো?' এরপরে জিজ্ঞেস করেছে, 'জামায়াতের কোন জিনিসটা আপনার ভালো লাগে, পছন্দ হয়?' কয়, 'জামায়াত পুরাটাই আমার ভালো লাগে।' এগুলা দেখার পরে মাথা ঠিক থাকবে? ঠিক রাখতে হবে। যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে থাকেন, তাহলে অন্যের মতামতকে প্রাধান্য অবশ্যই দিতে হবে। আমরা মাদেরকে বলবো—আপনার যাকে পছন্দ আপনি তাকে ভোট দিবেন। কিন্তু কোন জালিম যদি আপনার দিকে চোখ তুলে তাকায়, সাথে সাথে বলবেন, '১২ তারিখে আমি যাবো, তুমি পারলে ঠেকাইও।' যে মায়েরা শরিফ, উসমান, হাদির মতো সন্তান জন্ম দেয়; আবরার ফাহাদের মতো সন্তান জন্ম দেয়; আবু সাঈদের মতো সন্তান জন্ম দেয়—সেই মায়েরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পাত্তাই দেয় না। তারা ভীতির রাজ্য কায়েম করতে চায়।</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, ভয়কে যে জাতি ইতিমধ্যেই জয় করে ফেলেছে, এই জাতিকে হিসাব করে কথা বলবেন। যদি সত্যিই গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকে, তাহলে নিজের কাজ নিজে করুন, অন্যটা তাকে করতে দিন। হ্যাঁ, কোন প্রার্থী এবং তার সমর্থকেরা যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তাহলে আপনি অথরিটি যারা আছে—নির্বাচন কমিশনকে বলুন, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলুন, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলুন, সরকারকে বলুন। কিন্তু আমাকে বাধা দেওয়ার আপনি কে?</p>
<p>ইতিমধ্যে বাধার লক্ষণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। ঢাকার রাজপথে আমাদের কলিজার টুকরা বিপ্লবের প্রতীক হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। শেরপুর জেলার একটি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। হত্যা করে কারো গতি থামাতে পারবেন না। যেই দলের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার উপর দাঁড়াতে থাকে, তাদেরকে ভয় দেখান? ভয় আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে করি না। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যুবকদেরকে, যুবতীদেরকে কথা দিয়েছি। আমরা মা-বোনদেরকে কথা দিয়েছি। আমরা তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিব, কিন্তু হার মানবো না।</p>
<p>প্রিয় লক্ষ্মীপুরবাসী, আপনারা সংগ্রামী জাতি। আপনারা কারো কাছে হার মানেন নাই। এই জায়গায় খুনি... এক খুনি, আমার লজ্জা হয় তার কথা বলতে। জেলে তার সাথে আমার একবার দেখা হয়েছিল। এরপরে আর আমি দেখা করতে চাইনি। আমার ভাই ডা. ফয়েজ আহমদকে তার বাসার তিন তলার ছাদে নিয়ে সেখানে শারীরিক নির্যাতন করে জীবন্ত দেহটা নিচে ফেলে দিয়েছিল। তিনি কার ক্ষতি করেছিলেন? তিনি তো গরীবের বন্ধু ছিলেন। তিনি তো গরীবের ডাক্তার ছিলেন। তিনি তো অসহায় মানুষের অভিভাবক ছিলেন। তার উপরে এই অত্যাচার! এটা শুধু লক্ষ্মীপুরে নয়, সারাদেশে এটা হয়েছে। আমরা এই পরিবেশ আর আসতে দিব না ইনশাআল্লাহ। দেশবাসী এখন একাট্টা। চারিদিকে এখন জোয়ার শুরু হয়েছে মুক্তির পক্ষে, ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখার পক্ষে। মহান আল্লাহর দরবারে আমরা কাতর কণ্ঠে আরজ করি—হে আল্লাহ, তুমি সেই বাংলাদেশটা আমাদেরকে দান করো। আমিন।</p>
<p>লক্ষ্মীপুর অনন্য একটা দিক থেকে। এই লক্ষ্মীপুরে বহু বড় বড় খ্যাতনামা জাতির বিশিষ্ট রাহবার আলেমদের জন্ম হয়েছে। অনেক জাতীয় নেতাদের জন্ম হয়েছে এই লক্ষ্মীপুরে। আমরা ইসলামের জন্য কথা বলি, অনেকের ভালো লাগে না। কারো ভালো লাগুক না লাগুক, আমরা বলতেই থাকবো। জামায়াতে ইসলামী, তাবলীগী জামায়াত, কওমি মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা—সব মিলাইয়া আমাদের এক আল্লাহ, সব মিলাই আমাদের এক নবী, সবাই আমরা সাহাবায়ে কেরামের অনুসারী, সবাই মিলেই আমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। এখান থেকে কেউ আমাদেরকে টলাতে পারবে না। আমাদের দাওয়াত স্পষ্ট—আমরা আল্লাহর গোলামি ছাড়া আর কারো গোলামি মানি না। মানবো না কোন আধিপত্যবাদ, মানবো না কারো চোখ রাঙ্গানি। বিদেশে বন্ধু থাকবে, কিন্তু প্রভু মেনে নেব না।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরবাসী, জাতীয় জীবনের যে সমস্যাগুলো আছে ইনশাআল্লাহ সমাধান হবে। ভয় দেখানো হয়—জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করে বের হয়েছেন তাদেরকে মসজিদ এবং মেহরাব থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। এরা মিথ্যাবাদী। বলা হয় কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, আপনাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি—কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা। কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়। ইসলামী শিক্ষাটা তারাই এখন ধরে রেখেছেন। আলিয়ার শিক্ষা সংকুচিত হয়ে এসেছে। আমরা সেই আল্লাহর উপর বিশ্বাস করি যিনি কোরআন নাজিল করেছেন। সেই কোরআনের অসংখ্য হাফিজ তৈরি হয় কওমি মাদ্রাসা থেকে। তারা আমাদের মাঝে লাগাতে চায়, বাধাতে চায়। আমরা সবাই ইনশাআল্লাহ হুশিয়ার আছি। আমরা কারো ওয়াসওয়াসাতে পা দেবো না ইনশাল্লাহ।</p>
<p>মাদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে—এরা ক্ষমতায় গেলে ঘরে বন্দি করে রেখে দেবে। আমার মা ছিলেন, এখন নাই। আমার স্ত্রী আছে, আমার মেয়েরা আছে। আমার মতো আমাদের সবার আছে। তারা কি ঘরে বন্দি? না। তারা জীবনের বাস্তব প্রয়োজনে অন্য দশজন মহিলা যেমন চলাচল করে, কাজ করে, তারাও তাই করে। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখেন, কর্মকাণ্ডে অবদান রাখেন। কিন্তু তাদের দুইটা জিনিসের অভাব—কর্মস্থলে, গৃহে, চলাচলে তাদের কোন নিরাপত্তা নাই, তাদের কোন ইজ্জত নাই। আমরা কথা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ—আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিলে দেশ চালানোর, আমরা তাদের সম্মান এবং নিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ। মায়েরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবেন। আমার এই মাটি কোন ধর্মের এটাও আমরা দেখবো না। আমরা দেখবো ওই যোগ্যতাটা তার আছে কিনা যে কাজটা আমরা তার হাতে তুলে দিতে চাই। এজন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভেদাভেদ রেখা দূর করে আমরা ইনশাআল্লাহু তাআলা আজিম একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো।</p>
<p>আমরা এখানে কোন বেশকম করবো না। এক ভাই স্লিপ দিয়েছেন—লক্ষ্মীপুরে ধর্মীয় ব্যাপারে কথা বলা সমস্যা। কে বলল আপনার সমস্যা? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলতে চেয়েছেন? অমুসলিমদের কথা বলেন, অমুসলিমদের আহ্বান করার জন্য, অমুসলিম তাদের নিয়ে কিছু কথা বলার জন্য? সেটাই তো বলছি। আবার স্লিপ দিছে! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার রাষ্ট্রে ইহুদিদের সাথে লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। তাদের নাগরিকত্ব শুধু মেনে নেননি, তাদের সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত এই চুক্তি তারা মেনে চলেছে, তারা সম্মান লাভ করেছে। যখন তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, তখন তারা শাস্তি পেয়েছে। বাংলাদেশে আমরা একটা সহনশীল পরিবারে যুগ যুগ ধরে পরিসরে আমরা বসবাস করে আসছি। মাঝে মাঝে হুতুম পেঁচা এসে আমাদের বাগানের ফুল এলোমেলো করে দিতে চায়। আমরা কথা দিচ্ছি—সকল ধর্মের বর্ণের মানুষকে আমরা বুকে নিয়েই চলবো ইনশাআল্লাহ। কাউকে আমরা ফেলে দেবো না। সবার যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সকল ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন তাদের জন্য নিরাপদ করা হবে। কেউ এখানে হাত দেওয়ার, চোখ তুলে তাকানোর সুযোগ পাবে না। মুসলমানরা মুসলমানদের উপাসনা করবে, অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের উপাসনা করবে। তাদের উপাসনায় বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই।</p>
<p>অতীতে যা হয়েছে, এই কাজ যারা করেছে তাদের কোন বিচার হয় নাই। আমরা কথা দিচ্ছি এদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। দোষ দেয়া হয়েছে আমাদের উপর। এরা চোরাই পথের অন্ধকার গলির নায়ক। নিজেরা অপকর্ম করে আমাদের ঘাড়ে দিয়েছে। আজ আল্লাহ তাআলাকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই—আমরা নির্দোষ। আমরা এই অপকর্মের সাথে কখনো জড়িত ছিলাম না। আমরা তাদেরকে খুঁজে বের করে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের মুখ থেকেই তাদেরকে ডকুমেন্টেড করে বিচারের মুখোমুখি করব ইনশাআল্লাহ। তখন আর কেউ এই দুঃসাহস দেখাবে না কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর জুলুম করার।</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, এই লক্ষ্মীপুরের অনেক সমস্যা। দাবি-দাওয়া চমৎকারভাবে আপনাদের প্রিয় মানুষ, লক্ষ্মীপুর সদর থেকে যিনি এই জাতিকে নেতৃত্ব দিবেন, লক্ষ্মীপুরবাসীকে নেতৃত্ব দিবেন—তিনি বলে গিয়েছেন। দাবি সবগুলা সংগত। আরেকটা দাবি তিনি করেন নাই, সেটা আমি যোগ করে দেই—এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ছিল এই লক্ষ্মীপুরে। লুটপাট দুর্নীতি করে এটাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এটাকে জীবন দিব ইনশাআল্লাহ। বাকি যে দাবিগুলা করেছেন সংগত, একটা একটা করে ইনশাআল্লাহ সব পূরণ হবে। তবে আপনাদের সাথে বসেই আমরা ঠিক করব কোন দাবিটা আগে পূরণ হওয়া উচিত। যেটা আপনারা বলবেন সেটাই হবে। আপনাদের অর্থের পাই পাই হিসাব আপনাদের কাছে তুলে ধরা হবে। মেঘনা নদীর বাঁধ নির্মাণ সম্পর্কে বলা হয়েছে—বাজেট আসে পেটের ভিতরে চলে যায়, নদীর পাড়ে যায় না। আমরা নদীর পাড়ে সেই বাজেট নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। কারো পেটের ভিতরে অভাবে ঢুকতে পারবে না। হ্যাঁ, ঢুকবে যারা সেখানে কাজ করবে সেই সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পাবে। কেউ চুরি করতে পারবে না। অতীতে রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করে বিদেশে যারা পাচার করেছে, আমরা কথা দিচ্ছি—আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিলে আপনাদের ভোটে ওদের পেটের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব ইনশাআল্লাহ। এই অর্থ এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যোগ করা হবে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশে উন্নয়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি কোথায় ওটা দেখা যাবে না। বরঞ্চ কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, সেইটাই আগে চিহ্নিত করা হবে ইনশাল্লাহ।</p>
<p>বিচারের ব্যাপারে আমাদের কথা সাফ। আমরা সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, সকল ধর্ম-বর্ণ মানুষের জন্য একই বিচার। একজন সাধারণ মানুষ যে অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি দেওয়া হবে, একই অপরাধ দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি করেন, তাদেরকে ছাড় দিয়ে বিচার কথা বলবে না। একই বিচার তাদের জন্য আরোপ করা হবে। কোন দায়মুক্তি নাই, কোন ইমপিউনিটি নাই। অপরাধ অপরাধই। যিনি অপরাধ করেছেন শাস্তি তাকে পেতেই হবে। এগুলা যারা ভয় করে, তারা জনগণের এই উত্তাল সমুদ্রকেও ভয় করে। আজকে শুধু লক্ষ্মীপুরে না, সারা বাংলাদেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ 'হ্যাঁ' ভোটের পরে ১২ তারিখ ১১ দলের যার যেখানে দেওয়া হয়েছে সেইটাকে জয়ী করার মাধ্যমে জনগণের সরকার কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর সরকার কায়েম করবো না। আমরা বলেছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা বলেছি জনগণের সরকার কায়েম করতে চাই। আমরা বলেছি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই বিজয়ই আমরা নিশ্চিত করতে চাই। মহান আল্লাহ তা'আলার সাহায্যে, বি ইজনিল্লাহ।</p>
<p>প্রিয় লক্ষ্মীপুরবাসী, আজকে যে কথাগুলো আপনাদের এখানে বলে গেলাম এটা আপনাদের কাছে আমানত। আমাদের সালাম নিয়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুন। আমাদের ভাই, বাবা, সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন। আমাদের মা-বোনদেরকে উৎসাহিত করুন। তাদেরকে বলুন আপনাদের জন্য আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এটা শেষ হবার নয়। আপনাদের মর্যাদা যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন ফুলস্টপ, সেদিন থামবো। এর আগে আমরা থামবো না।</p>
<p>আমি বিশ্বাস করি লক্ষ্মীপুরবাসী এবারকার নির্বাচনে একটি ইতিহাস রচনা করবে। সেই ইতিহাস হবে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে। সেই ইতিহাস হবে বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করার পক্ষে। সেই ইতিহাস হবে দুর্নীতিবাজমুক্ত করার পক্ষে। সেই ইতিহাস হবে অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে। সেই ইতিহাস হবে বেকারত্বের বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ। সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।</p>
<p>এবার চারটি আসনের প্রার্থীদেরকে সামনে এনে তাদের হাতে আপনাদের প্রতীক, জনগণের প্রতীক আমি তুলে দিচ্ছি।</p>
<p>১. <strong>লক্ষ্মীপুর-১:</strong> এনসিপির নেতা জনাব মাহবুব আলম। (শাপলাকলি) ২. <strong>লক্ষ্মীপুর-২:</strong> (দাড়িপাল্লা) ৩. <strong>লক্ষ্মীপুর-৩:</strong> (দাড়িপাল্লা) ৪. <strong>লক্ষ্মীপুর-৪:</strong> জনাব হাফিজ উল্লাহ। (দাড়িপাল্লা)</p>
<p>আসুন মহান আল্লাহর নামে ধ্বনি দিয়ে বিদায় নেই।</p>
<p><em>(স্লোগান: লিল্লাহি তাকবীর, আল্লাহু আকবার! ইনকলাব জিন্দাবাদ!)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=1MLi3t4KFA0">ভিডিও বক্তব্য</a></p>
]]></content:encoded></item><item><title><![CDATA[নোয়াখালীর জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণ]]></title><description><![CDATA[(সঞ্চালক: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সংগ্রামী বন্ধুগণ, আজকের জুমার দিনে আমাদের আমীরে জামায়াত ইতিমধ্যেই মঞ্চে উপবেশন করেছেন। আমরা আর কেউ বক্তৃতা দেব না। এখন আপনাদের সামনে বক্তব্য পেশ করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, বিশ্ব ইসলামী আন্দোল...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-noakhali</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaat-dr-shafiqur-rahmans-speech-at-noakhali</guid><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[Jamaat]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Sat, 31 Jan 2026 04:49:17 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769834713942/55d167b1-403c-455b-8597-426dc1d02e0e.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p><em>(সঞ্চালক: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সংগ্রামী বন্ধুগণ, আজকের জুমার দিনে আমাদের আমীরে জামায়াত ইতিমধ্যেই মঞ্চে উপবেশন করেছেন। আমরা আর কেউ বক্তৃতা দেব না। এখন আপনাদের সামনে বক্তব্য পেশ করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নন্দিত নেতা, আধুনিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা, এ দেশের গণমানুষের প্রাণের স্পন্দন, জননেতা ডা. শফিকুর রহমান।)</em></p>
<p><em>(জনতার স্লোগান: নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার!)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><em>(জনতার সাড়া ও সশব্দ হাসি)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> প্রিয় নোয়াখালীর ভাই ও বোনেরা, আপনারা কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়ালা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া আহলে বাইতিহি আজমাঈন।</p>
<p>মহান রাব্বুল ইজ্জতের শুকরিয়া আদায় করছি। পবিত্র জুমাবার—আজকে দ্বীন এবং জাতির প্রয়োজনে আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনাদের সামনে দাঁড়াবার তৌফিক দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p>আমি আরো শুকরিয়া আদায় করছি, এটি এমন একটি মাটি, যেখানে প্রায় জায়গায় জায়গায় বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা—আলেম-ওলামার চারণভূমি। দেশ এবং জনগণের ইসলামের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে এই জনপদে বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি সেই শহীদ ঈদগাহে আজকে দাঁড়াতে পেরে আরেকবার আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি—আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p>এই নোয়াখালী জেলার আলেম-ওলামাগণ দ্বীনি ইলমের খেদমত শুধু নোয়াখালীতে সীমাবদ্ধ রাখেন নাই, তারা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। জাফলং থেকে সুন্দরবন আর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—আপনি যেখানেই যাবেন, সেখানে গিয়ে আপনি জানতে পারবেন যে তাদের আদি পুরুষদেরকে ইসলামী দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছেন নোয়াখালীর মানুষেরা, আলেম-ওলামারা। আপনারা সেই গর্বিত এলাকার মানুষ। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করি, এই সমস্ত আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা, মসজিদের উসিলায়, খানকার উসিলায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়ায় আপনাদের সম্মান এবং ইজ্জত আরো বৃদ্ধি করে দিন। দুনিয়ার এমন কোন সভ্য দেশ নাই যেখানে নোয়াখালীর কিছু মানুষ পাওয়া যাবে না। এটি আপনাদের কৃতিত্ব। এলাকার মানুষ লড়াকু মানুষ, তারা সামান্য কিছু দেখে ভয় পায় না, বরঞ্চ তারা ভয়কে জয় করতে জানে। আপনারা রিয়েলি বীর। আমি বীরদেরকে আরেকবার আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তাকবীর দেই, আসুন—লিল্লাহি তাকবীর! আল্লাহু আকবার!</p>
<p>সম্মানিত ভাই ও বোনেরা, জুমার দিন বেশি কথা বলার সুযোগ নেই। মৌলিক কতগুলো কথা বলেই এরপরে লক্ষ্মীপুরের দিকে ইনশাআল্লাহ যাওয়ার চেষ্টা করব। আল্লাহ যেন নিরাপদে পৌঁছে দেন, আপনারা দোয়া করবেন।</p>
<p>এই ৫৬,০০০ বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে আমরা ভালোবাসি। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেককে আমরা ভালোবাসি। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা।</p>
<p><em>(জনতার ভিড় দেখে)</em> ও, আমি বুঝতে পারছি এইদিকে আমার ভাইদের একটু কষ্ট হচ্ছে। সামনে মিডিয়ার লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। পিছন থেকে প্রতিবাদী কণ্ঠ... শুধু বলেন বসেন, বসেন। আর আমি আপনাদেরকে বলি যে আপনারা বসে যান। পিছনে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা বসে যান, তারা হয়তো আমাকে দেখবেন না। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনুন, আল্লাহ আপনাদের দিলের চোখ খুলে দিক, যাতে আপনারা দিলের চোখে দেখতে পারেন। আর সাংবাদিকদেরকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দেন। ধন্যবাদ, আপনারা বসে গেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ।</p>
<p>সম্মানিত নোয়াখালীবাসী, বলছিলাম যে আমরা প্রতি ইঞ্চি মাটি আর প্রত্যেকটা মানুষকে ভালোবাসি। আমরা সেই ভালোবাসার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সাড়ে ১৫ বছর ধরে চরম নির্যাতিত একটা দল, যেই দলের ১১ জন সিনিয়র নেতাকে এক-দুই করে খুন করা হয়েছে। ঠান্ডা মাথায় যে দলের অফিসগুলো সারা সময়টা জুড়ে বন্ধ ছিল। এমনকি এই নোয়াখালীতে ওই কঠিন সময়ে ১৫ সালে আমি একবার এসেছিলাম। আমার দুই ঘণ্টার মিটিং ৫৭ মিনিটে আমাকে শেষ করতে হয়েছিল। কারণ কি? আপনারা সব বুঝেন, আমি আর বলতে যাচ্ছি না।</p>
<p>সম্মানিত ভাই ও বোনেরা, এরকম একটা অবস্থা পাড়ি দিয়ে আমরা যখন ৫ আগস্ট হাজার হাজার কর্মীকে হারিয়ে, হাজার হাজার কর্মীর পঙ্গুত্ব বরণ করার বিনিময়ে, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ জুলাই যোদ্ধার ত্যাগের বিনিময়ে বিজয় পেলাম—তখন আমরা উচ্ছ্বাস করি নাই, মিছিল করি নাই, স্লোগান তুলি নাই। আমরা সিজদায় পড়েছি, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করার জন্য। এটি মুমিনের দায়িত্ব, এটি দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব।</p>
<p>আপনারা জানেন, সবগুলো অফিস বন্ধ, আমাদের নিবন্ধন নাই, প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিশাহারা হয়ে আমাদেরকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এটা আর কোন দলের প্রতি হয় নাই। অন্য কোন দলের নিবন্ধন বাতিল হয় নাই, প্রতীক কেড়ে নেয় নাই, নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নাই। অন্য কোন দলের নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় নাই। এইসব আঘাতগুলো, যন্ত্রণাগুলো এসেছিল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপর। ইসলামী ছাত্র সংস্থার উপর। দোষ কি? আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন—<em>"ওয়ামা নাকামু মিনহুম ইল্লা আইয়ু'মিনু বিল্লাহিল আজিজিল হামিদ।"</em> এদের দোষ হলো এরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে। আর এরা বলেছে, পরম পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া কারো কর্তৃত্ব মানি না। এরা বলেছে, যেহেতু আল্লাহই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাদের রব; কাজেই সমস্ত তারিফ, প্রশংসা হবে আল্লাহ তাআলার।</p>
<p>বন্ধুগণ, যারা গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন, একটু দাঁড়ান। আপনাদের মুখ না দেখলে শান্তি পাই না। আপনারা যাবেন না। কষ্ট করে এসেছেন, আমাদের কথাগুলো শুনে যান। কারণ এই কথাগুলো জনগণের কাছে নিয়ে পৌঁছে দিতে হবে আপনাদেরকে। চলে গেলে তো ওইটা শুনতে পারবেন না। একটু দাঁড়ান, ধৈর্য ধরুন। গেটে যারা আছেন তারা ভাইদেরকে থামতে সাহায্য করুন। কষ্ট করে রোদের মধ্যে এসেছেন, আর ১৫ মিনিট একটু থাকবেন ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>বন্ধুগণ, কি হলো ৫ তারিখের পর? আল্লাহ তাআলার দেওয়া এই নিয়ামত, এই নাজাত, এই মুক্তির পর আমরা এই মজলুম দলটি প্রথমেই জানিয়ে দিলাম—আমরা কারো উপর থেকে কোন প্রতিশোধ নেব না। আমরা আমাদের কথা আলহামদুলিল্লাহ রক্ষা করেছি। আমরা আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, কিন্তু আমরা আমাদের সমস্ত সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে অনুরোধ করেছি যে, আপনার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে, ওর সম্পদের দিকেও আপনি হাত বাড়াবেন না। আমরা চাঁদাবাজি করি নাই, আপনারা সাক্ষী। আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে মামলা-হামলা করে নাজেহাল করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে। আমরা এই ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করব না, কোন মামলা-বাণিজ্য করব না। আপনারা সাক্ষী, আমরা মামলা-বাণিজ্য করি নাই। আমরা কি কথা আপনাদের সাথে, দেশবাসীর কাছে যা ওয়াদা করেছিলাম তা রাখতে পেরেছি? আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের সহকর্মীরা দেশকে ভালোবাসে, এজন্যই কোন মানুষের ক্ষতি তাদের দ্বারা হয় নাই, আগামীতেও হবে না ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>কিন্তু আফসোস, আমরা অনেকেই মজলুম ছিলাম। শুধু জামায়াতে ইসলামী না, জাতীয়তাবাদী দল, আলেম-ওলামা, অন্যান্য দল যারাই সরকারের বিপক্ষে ছিলেন তারাই মজলুম হয়েছেন। কাউকে খুন করা হয়েছে, কাউকে গুম করা হয়েছে, কাউকে আয়নাঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করা হয়েছে, কাউকে মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, যারা দেশকে ভালোবাসে, আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম—আমরা পাহারা দেওয়া শুরু করেছিলাম বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি স্থাপনা, মানুষের বাড়িঘর। সবাই মিলে আমরা এই কাজটা করেছি। দেশকে ভালোবাসে, কেউ কেউ করতে পারেন নাই, এটা তাদের ব্যাপার। যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছেন, ইনশাআল্লাহ আগামীতে তাদের হাতে যদি দেশ আসে, তাহলে ভালোবাসার একটা দেশ তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু যারা ধৈর্য ধরতে পারেন নাই, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন—আল্লাহর কসম, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেশের জনগণ যাদের হাতে নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে জনগণের জীবন। মানুষ বুঝতে পেরেছে। তাই সারা বাংলায় এখন বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে।</p>
<p>শুধু নোয়াখালী না, আপনারা মনে করতে পারেন এটা বোধহয় শুধু নোয়াখালীতেই—না, সারা বাংলায় জনগণ দেখতে পাচ্ছে। আমরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানে মানুষের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাই যুদ্ধ যারা করেছে, সেই যুবসমাজ—আলহামদুলিল্লাহ আজকে তারা মুখিয়ে আছে নতুন একটি বাংলাদেশ ১৩ তারিখ থেকে দেখার জন্যে। আজ যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—তারা কি আধিপত্যবাদের যারা দোসর তাদের পক্ষ নেবে, নাকি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের পক্ষ নেবে? তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে চেতনা, আকাঙ্ক্ষা—এটা কাদের দ্বারা বাস্তবায়ন হবে। তাদের বুঝ একদম স্পষ্ট।</p>
<p>মায়েরা বুঝতে পেরেছেন, বোনেরা, মেয়েরা বুঝতে পেরেছেন তাদের জীবন, ইজ্জত, সম্পদ কার কাছে নিরাপদ। এজন্য তারাও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। একজন যুবতী বোন, পোশাকে আস্তার মতো। তাকে সাংবাদিক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছে, ‘আপনি আগামীর ক্ষমতায় কাকে বাংলাদেশে দেখতে চান?’ আমরা ক্ষমতা বলি না, আমরা অন্য কিছু বলি। কিন্তু সাংবাদিক তার মতো প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আগামীর ক্ষমতায় আমরা জামায়াতকে দেখতে চাই।’ সাংবাদিক বললেন, ‘জামায়াত আসলে তো আপনি এই পোশাক পরতে পারবেন না।’ বোনটি বললেন, ‘না, তা নয়। জামায়াত আমাকে সম্মান দেবে।’</p>
<p>এরপরে যুবকদের একজন আইডল—ডাকসুর ভিপি—এসেছেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। ওই দেখেন বলছিলাম না যে যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। সেই ডাকসু থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়েছে। আর জাকসুতে (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) গিয়ে আপাতত থেমেছে এবং সারা বাংলাদেশে একই চিত্র হবে ইনশাআল্লাহ। যা হয়েছে পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তাই হবে আগামী ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>প্রিয় দেশবাসী, এরপরে বোনটিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ‘জামায়াতের কোন কাজ আপনার ভালো লাগে?’ তিনি বললেন, ‘সারা জামায়াতটাই আমার ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি জামায়াত আসলেই দেশটা ঠিক হবে।’ এত বড় প্রত্যাশা! আমাদেরকে এইভাবে সম্মানিত করা—আমরা মাদেরকে, বোনদেরকে কথা দিচ্ছি, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের হাতে দেশ সেবার দায়িত্ব আপনাদের ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে তুলে দেন—আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের সকল যোগ্যতা উজাড় করে আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব ইনশাআল্লাহ। আমাদের মায়েরা ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে—এই তিন জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা এবং সম্মান সেদিন উপভোগ করবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা বদ্ধপরিকর।</p>
<p>যুবক বন্ধুরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তোমরা কি বেকার ভাতা চাও? না। তোমরা দেশ গড়তে চাও? তৈরি হয়ে যাও। এই দেশ তোমাদের হাতে তুলে দেব ইনশাআল্লাহ। ১১ দলের প্রার্থীদের মধ্যে ম্যাক্সিমামের বয়স হচ্ছে ৪৫-এর নিচে। এটা কি বার্তা দিচ্ছে জাতিকে? বার্তা দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ যুব সমাজের বাংলাদেশ। তোমরা থাকবে প্লেনের ককপিটে—বাংলাদেশ নামক যে প্লেন—আর আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ প্যাসেঞ্জারদের সিটে বসে। সেই প্লেনটি চালিয়ে জাতিকে নিয়ে তোমরা সামনের দিকে উড়াল দিবা, এগিয়ে যাবা। আমরা সেই হাতগুলো তোমাদের গড়ে দিতে চাই—বেকারের হাত নয়, দেশ গড়ার কারিগরের হাত ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই হাত গড়ে দিয়ে তোমাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। সেদিন প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী বলবে, ‘আমি বাংলাদেশ। আমাকে দেখে নাও বাংলাদেশটা কেমন।’ আমরা সেই দেশ গড়তে চাই। আপনারা সবাই প্রস্তুত? যুবকরা প্রস্তুত? আচ্ছা যুবক কারা আছেন একটু হাত তুলেন দেখি। মাশাল্লাহ, আমি সহ সবাই যুবক। হে আল্লাহ, এই যৌবনকে তুমি কবুল করো। যৌবনের এই শক্তিকে তুমি কবুল করো। এ দেশের মানুষের জন্য নিয়ামত হিসেবে কবুল করো। আগামীর বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য কবুল করো।</p>
<p>প্রিয় বন্ধুগণ, এই নোয়াখালী জেলা পূর্ব পাকিস্তান আমলে যখন ১৯টা জেলা ছিল, তখন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ জেলা ছিল। এই জেলার অনেকগুলো ন্যায্য দাবি আছে। আমি সেই দাবিগুলো এখানে পেয়েছি। এরকম ছয়টা দাবির কথা আমার সামনে উত্থাপন করা হয়েছে: ১. নোয়াখালী বিভাগ চাই। (জনতার ব্যাপক সাড়া) ২. নোয়াখালী শহরকে সিটি কর্পোরেশন চাই। ৩. হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচরে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। ৪. কোম্পানীগঞ্জের ছোটফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ চাই। ৫. সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ চাই। ৬. সুবর্ণচরে একটা পৌরসভা চাই। (আমি যেখানে গিয়েছিলাম, একজন দুঃখিনী মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে পৌরসভা করব ইনশাআল্লাহ)</p>
<p>ইনশাআল্লাহ তাআলা, আপনাদের এই ছয়টা দাবি আমি বুঝতে পারলাম যে নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি। দোয়া করবেন, কথা দিচ্ছি আপনাদের সাথে বেইনসাফি করা হবে না ইনশাআল্লাহ। ইনসাফের মানদণ্ডে দাঁড়িয়ে অবশ্যই আপনাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব। আমরা সব দাবি কবুল করে নিলাম ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই অঙ্গীকার পূরণের জন্য বিশেষভাবে যেন সাহায্য করেন।</p>
<p>প্রিয় নোয়াখালীবাসী, আমরা একটা দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই না সাড়ে ১৫ বছরের সেই দুঃশাসন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসুক। যদি আমরা না চাই, তাহলে ১২ তারিখ দুটা ভোট। প্রথম ভোটটা হবে ইনশাআল্লাহ সংস্কারের পক্ষে—‘হ্যাঁ’। প্রথম ভোটটা কি ভোট হবে? ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আজাদি না গোলামি?</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, এরপরে যা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লার সাথে আরো ১০টা প্রতীক যুক্ত হয়েছে। এই ১০-১১ প্রতীক যাকে যেখানে যেটা দেয়া হবে, ধরে নিতে হবে যে তার মাঝে ১১টা আছে। আমরা সবাই মিলেমিশে এক মায়ের সন্তানের মতো কাজ করব ইনশাআল্লাহ। আমি জানি, বিশেষ করে আমার সংগঠনের ভাইদের-বোনদের কিছু কষ্ট, কিছু অভিমান আছে। আমি আজকে হাত পেতে সেই কষ্টগুলো তুলে নিয়ে যেতে এসেছি। আপনারা কি আমাকে সেই কষ্টগুলো আমার হাতে তুলে দিবেন? এটা নিয়ে নেন। আপনারা দুঃখ ভুলে যাবেন? জীবন বাজি রেখে এখন কাজ করবেন? এখন থেকে ১২ তারিখ বিজয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন? শুকরিয়া, আপনাদেরকে মোবারকবাদ।</p>
<p>১২ তারিখ ছয়টি আসনের চারটিতে দাড়িপাল্লা, দুইটিতে আছে শাপলাকলি। আমি আগেই বলেছি দাড়িপাল্লার সাথে বাকি আমরা সব আছি, শাপলাকলির সাথেও আমরা সব আছি। এখানে আলাদা কিছু নাই।</p>
<p>সরকারি কর্মচারীরা—কেউ সৎ, কেউ সততা রক্ষা করেন না। কেন করেন না? তাদেরকে যে বেতন-ভাতা, সুবিধা যেগুলো দেওয়া হয়, সম্মানের সাথে চলার জন্য এগুলো অনেক সময় পর্যাপ্ত হয় না। আমরা তো একটা সৎ বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু করেছি। আমরা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত বিষয়টা দরদের সাথে, সম্মানের সাথে বিবেচনায় নিয়ে পে-কমিশনকে বলব যথাযথ রিকমেন্ডেশন আমাদের কাছে দেওয়ার জন্য, যাতে একজন মানুষ সরকারি চাকরি করার পরে দ্বিতীয় কোন রুজির সন্ধান তাকে করতে না হয়, আর টেবিলের নিচে যেন হাত ঢুকাতে না হয়। এরপরে যারা সততার রাস্তা ছেড়ে দেবেন, তাদেরকে সংশোধনের জন্য চেষ্টা করব। সংশোধন না হলে কঠোর অবস্থান নেব। জনগণের আমানত নিয়ে আমরা কাউকে খেলতে দেব না, ছিনিমিনি করতে দেব না।</p>
<p>আর যারা চাঁদাবাজি করে, তাদেরকে আহ্বান জানাই—ভাই ছেড়ে দাও। এটা হারাম। হারাম পেটে ঢুকাইও না, নিজের পরিবারকে খাওয়াইও না। এই দিয়ে বাচ্চাকাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিও না। ওই বাচ্চাকাচ্চা পরে তোমার প্রতি বিদ্রোহী হয়ে তোমাকেই নির্যাতন করবে। এই কাজ করতে যেও না, ছেড়ে দাও। যদি তোমার সম্পদের অভাব হয়, আল্লাহ আমাদেরকে যা সীমিত সম্পদ দিয়েছেন তাই মিলেমিশে ভাগ করে খাবো, তবুও ছেড়ে দাও। তোমরা যদি ছেড়ে দাও, তোমাদেরকে সম্মানিত করা হবে। তোমাদেরকে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, তোমাদের হাতেও তোমাদের মর্যাদার কাজ তুলে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। এখন মুখ লুকিয়ে চলো, তখন বুক ফুলিয়ে চলবা। বলবা—‘আমিই বাংলাদেশ, আমি বদলে গেছি, আমি নতুন বাংলাদেশ।’ তখন তোমরা সেটা বলতে পারবা। কিন্তু এরপরে যদি আমাদের বিনয়ী অনুরোধ কেউ রক্ষা না করে, তাহলে আমাদের সেদিন গরম মূর্তি তারা দেখতে বাধ্য হবে। কাউকে আমরা ছেড়ে দেব না। ফুটপাতের একজন ক্ষুদ্র দোকানদার থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত সবার রাতের ঘুম ওরা হারাম করে দেয়। এরকম যারা তখনো কন্টিনিউ করবে, তাদের ঘুমও হারাম করে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>এইখানে কথা আর আমি এখন বাড়াচ্ছি না। আমি বিদায় নিতে চাই। তার আগে ১১ দলের পক্ষ থেকে ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একান্ত আশা নিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে, একে একে ছয়জন এই এলাকার যারা সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আছেন, তাদের হাতে আমি প্রতীক তুলে দিতে চাই।</p>
<p>১. <strong>নোয়াখালী-১:</strong> অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ। (দাড়িপাল্লা) ২. <strong>নোয়াখালী-২:</strong> এনসিপি মনোনীত, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া। (শাপলাকলি) ৩. <strong>নোয়াখালী-৩:</strong> জনাব মাওলানা বুরহাদউদ্দিন। (দাড়িপাল্লা) ৪. <strong>নোয়াখালী-৪:</strong> জেলা আমীর জনাব ইসহাক খন্দকার। (দাড়িপাল্লা) ৫. <strong>নোয়াখালী-৫:</strong> জনাব বেলায়েত হোসাইন। (দাড়িপাল্লা) ৬. <strong>নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া):</strong> শাপলাকলি।</p>
<p>সবাইকে ধন্যবাদ। আসুন আমরা বিদায় নেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে।</p>
<p><em>(স্লোগান: লিল্লাহি তাকবীর, আল্লাহু আকবার! ইনকলাব জিন্দাবাদ!)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সাদিক <em>(ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম)</em> একটু সালাম দিবে আপনাদেরকে।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=0NFRHl8Nr-w">বক্তব্যের ভিডিও</a></p>
]]></content:encoded></item><item><title><![CDATA[ফেনী জেলার নির্বাচনি জনসভায় আমীরে জামায়াতের ভাষণ]]></title><description><![CDATA[(সঞ্চালক: এ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য পেশ করবেন মুহতারাম আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। আমি মুহতারামকে উনার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করার জন্য অনুরোধ করছি।)
আমীরে জামায়াত: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
(জনতার স্লোগান)
সালাম আর স্লোগান—দু...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaats-speech-at-feni-district-election-rally</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/ameer-e-jamaats-speech-at-feni-district-election-rally</guid><category><![CDATA[jemaat]]></category><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[bangladesh]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Sat, 31 Jan 2026 04:26:41 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769833358866/f663b580-3fb9-42c9-8ff5-36818cf04c6b.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p><em>(সঞ্চালক: এ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য পেশ করবেন মুহতারাম আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। আমি মুহতারামকে উনার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করার জন্য অনুরোধ করছি।)</em></p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><em>(জনতার স্লোগান)</em></p>
<p>সালাম আর স্লোগান—দুইটা একসাথে দিলে সালাম হারিয়ে যায়, তাই না?</p>
<p><strong>আমীরে জামায়াত:</strong> আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। শীতের দিনেও কড়া রোদ। আমরা এসেছি আপনাদেরকে দেখতে। এতক্ষণ কষ্ট করে আপনারা আজকের এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন, আপনাদেরকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। আরো ১৫ মিনিট আপনারা এখানে থাকবেন। যেখানে আছেন, ওখানেই ইনশাআল্লাহ আমি আশা করব দাঁড়িয়ে বা বসে থেকে সহযোগিতা করবেন। কেউ নড়াচড়া করে বা হাটাহাটি করে অন্যকে কষ্ট দিবেন না, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনীর আসন সমূহে যাদেরকে ১১ দলের পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়েছে, এ ভাইদের সমর্থনে এবং গণভোটের সমর্থনে আয়োজিত আজকের এই বিশাল জনসভার সম্মানিত সভাপতি—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা শাখার সম্মানিত আমীর মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান; মঞ্চে উপবিষ্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ; সহযোদ্ধা ১১ দলের কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় নেতা ও নেতৃবৃন্দ; গর্বিত শহীদ পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ; জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধারা—বিশেষভাবে যারা আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; আমার সহকর্মীবৃন্দ এবং ফ্যাসিবাদের সাড়ে ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত ও মজলুম হয়েছেন, সেই সমস্ত মজলুম ফেনীবাসী ও সাংবাদিক বন্ধুগণ—</p>
<p>আমি আল্লাহ তাবারক তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা একটি ‘৩৬ জুলাই’ পেয়েছিলাম, এজন্য আজকে এখানে দাঁড়াতে পারলাম। আমরা একটি ‘৩৬ জুলাই’ পেয়েছিলাম, এজন্য সবাই এখানে আসতে পেরেছি। ৩৬ জুলাইয়ের আগে এই ধরনের একটি দৃশ্য আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। গোটা দেশ ছোপ ছোপ রক্ত আর সারি সারি লাশে ভরে গিয়েছিল। সেই যে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তারা তাদের খুনের তাণ্ডব শুরু করেছিল, ক্ষমতায় এসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা, বিএনপির নেতৃবৃন্দকে হত্যা, আলেম-ওলামাকে হত্যা, সাংবাদিকদেরকে হত্যা, সিভিল সোসাইটির সদস্যদেরকে হত্যা—যারে ইচ্ছা হয়েছে তাকেই খুন করার মাধ্যমে খুনের রাজত্ব তারা শুরু করে।</p>
<p>ফেনীবাসী, আপনারা ছিলেন আরো বেশি সন্ত্রাসের রাজ্যে এবং এক বংশানুক্রমিক সন্ত্রাসের কবলে। এটি অন্য কোন জেলায় খুঁজে পাওয়া যায় না। বাট তারপরেও আপনারা প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলেন। সন্ত্রাসীদের লাল চক্ষুকে পরোয়া করেন নাই। আপনারা এবং আপনাদের বুকের সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। পুরা জুলাই জুড়ে আন্দোলন করেছেন, আগস্টের ৫ তারিখ ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। এখানে মহিপালে আমাদের ১২ জন সহযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছে। আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহান রবের দরবারে দোয়া করছি, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মর্যাদাবান শহীদ হিসেবে কবুল করুন।</p>
<p>আমি আরো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি পিতৃভূমি ফেনীর মানুষ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন, আধিপত্যবাদকে তিনি প্রশ্রয় দেন নাই। এই জায়গায় তাকে আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুকরিয়া জানাই, অভিনন্দন জানাই। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সবচাইতে দুর্যোগকালীন কঠিন সময়ে যিনি কেন্দ্রীয় আমীরের দায়িত্ব পালন করেছেন—আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয়, আপনাদের অনেকের শিক্ষক জনাব মকবুল আহমদ সাহেবকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর রুহের প্রতি সীমাহীন রহমত এবং শান্তি বর্ষণ করুন।</p>
<p>সম্মানিত ফেনীবাসী, আপনাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। দুই-একটা সমস্যার স্বচক্ষে সাক্ষী হওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পরপরই সম্ভবত ১২ আগস্ট সীমান্তের ওপার থেকে তেড়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে গোটা ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং কুমিল্লার একটা অংশ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময়টা প্রথম দিনেই ঝুঁকি নিয়ে আমরা এসেছিলাম। গাড়ি চলে না, আমরা হেলিকপ্টার দিয়ে তাড়াতাড়ি আসতে চাইলাম। আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার কর্তৃপক্ষ বলল, ‘আমরা এই আবহাওয়ায় উড়াল দিতে পারব না।’ এখান থেকে বলা হলো, ‘আপনি আসবেন না, কারণ ফেনী পর্যন্ত পৌঁছার কোন ব্যবস্থা নাই। জায়গায় জায়গায় হাঁটু পানি, কোমর পানি।’ আমি বললাম, ‘মানুষ কি চলাচল করে?’ বলল, ‘হ্যাঁ করে।’ ‘কিভাবে করে?’ ‘কোমর পানি ভাইঙ্গা করে।’ আমি বললাম, ‘তাহলে আমিও কোমর পানি ভাঙবো।’ এবং চেষ্টা করলাম আপনাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। সেদিন আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা শুধু দেখেছি, আর এই কষ্ট দেখে একটুখানি চোখের পানি ফেলেছি। ওই কয়েক ফোটা পানি বন্যার পানির সাথে মিলায়ে গেছে। আমি আপনাদের সকল দুঃখ-দুর্দশা শেষ করতে আসিনি, এসেছিলাম আপনাদের দুঃখের সঙ্গী এবং সাক্ষী হতে।</p>
<p>ওই সময়টা ভাঙা বাঁধের জায়গায় যেতে পারিনি। এরপরেই আবার যখন অনুকূল সামান্য পরিবেশ এসেছে, এসেছিলাম সেই জায়গাটা দেখার জন্য। ছোট্ট একটি জায়গা। এটি মর্যাদার প্রশ্ন, এটি আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। আজকে আমার বড়ই মনে পড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কৃতি ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এই ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলেছিল, এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। ফেনীবাসী, আবরার ফাহাদের রুহকে আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। যতদিন ফেনী দুনিয়ায় বেঁচে থাকবে, আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা আবরার ফাহাদকে আপনাদের কলিজায়, আপনাদের হৃদয়ে একটু জায়গা দিয়ে রাখবেন। সে আপনাদের কথা বলেছিল। সে দেশের ন্যায্য প্রাপ্যতার কথা বলেছিল। এজন্য যারা আধিপত্যবাদের দোসর এবং যারা আধিপত্যবাদের দালাল, তারা তাকে সহ্য করতে পারে নাই। মহান রবের দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ তুমি আবরার ফাহাদকে মুহাক্কিক শহীদ হিসেবে কবুল করো। এবং তার কবরের সাথে তোমার প্রিয় জান্নাতের একটি জানালা খুলে দাও।</p>
<p>আরো ১২ জন যারা শহীদ হয়েছে, তাদের কবরগুলোকে তোমার জান্নাতি নূরে তুমি প্লাবিত করে দাও। তাদের কবরগুলোর সাথেও জান্নাতের দরজা-জানালা খুলে দাও। তাদের সকলের আপনজনের অন্তরে তুমি প্রশান্তি নাজিল করো। আমরা যেন আজীবন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি, শ্রদ্ধার সাথে তাদেরকে অন্তরে ধারণ করতে পারি—আমাদেরকে সেই শক্তি দাও।</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা, এখানে লালপুলে ওভারপাস হওয়া দরকার, এটা বড় কোন দাবি না। ফেনীতে একসময় একটা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল, সম্ভবত পরে এটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার চালু হয়েছে কিনা আমি জানিনা, হয় নাই। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ১৮ কোটি মানুষের দেশে ৬৪টি জেলার কোন জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না ইনশাআল্লাহ। এবং এটি হবে সরকারি মেডিকেল কলেজ। অলরেডি ৩৩টা জেলায় আছে, বাকি ৩১টা জেলা বাকি আছে। আল্লাহতালা এই দেশবাসীর যদি সেবা করার সুযোগ আমাদেরকে দেন, ফেনী ইনশাআল্লাহ তার পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে, ফেনী বঞ্চিত হবে না। এর পাশাপাশি এও আমরা ঘোষণা করেছি, প্রত্যেকটি জেলা হেডকোয়ার্টারে বিশেষায়িত হাসপাতাল ক্রমান্বয়ে চালু করা হবে ইনশাআল্লাহ। সেই হাসপাতালের জনবল তৈরি করার জন্যই মেডিকেল কলেজ প্রয়োজন।</p>
<p>এখানে যে বাঁধটির কারণে আপনাদের দুঃখ, সেই বাঁধ এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদেরকে সেই সুযোগ দেন, আমরা জানি পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে এ ব্যাপারে একটু ‘ব্যাপার-স্যাপার’ আছে। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি, আশা করি তারাও আমাদেরকে শ্রদ্ধা করবে। এবং তাদের সাথে আমরা ফ্রুটফুল ডায়ালগের মাধ্যমে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করবো ইনশাআল্লাহ। কারণ আমার দেশ রক্ষার অধিকার আমার, এই দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। এই দায়িত্ব অগ্রাহ্য করে আমরা চলতে পারবো না।</p>
<p>ফেনীতে মানসম্মত একটা স্টেডিয়াম নাই। আজকে আমরা যেখানে ল্যান্ড করলাম, সেটা ফেনীর স্টেডিয়াম। ফেনী একটা প্রস্পারাস জেলা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফেনীর বিশেষ অবদান আছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে থাকেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে। ফেনীবাসীকে ফেনীর ন্যায্য পাওনা দেবো ইনশাল্লাহ আমরা। এই স্টেডিয়ামকে মানসম্মত আন্তর্জাতিক খেলার ভেনু হিসেবে তৈরি করা হবে ইনশাল্লাহ। যাতে এখানকার যুবকরা সুস্থ থাকার জন্য, সাবলীল হওয়ার জন্য খেলাধুলার এই সুযোগ আরো প্রসারিত হয়। এরকম আরো অনেকগুলো সমস্যা ফেনীর আছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে তার সবগুলো সমাধান ইনশাল্লাহ আমরা করব।</p>
<p>আমরা যে তিনজন প্রার্থীকে ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে উপহার দিয়েছি—এখানে ১১টি দল আমরা একাকার। আমরা এখানে আলাদা কিছু দেখবো না। যাকে যে মার্কা দেয়া হয়েছে, এইটাই ১১ দলের মার্কা। ১১ দলের কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু মান-অভিমান থাকতে পারে। আজকে সবগুলা মান-অভিমান আমি আমার দুই হাত তুলে নিয়ে যেতে চাই। এখন থেকে আর কোন মান-অভিমান চলবে না। একদম মিলেমিশে একাকার হয়ে লড়াই করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মা-বোনদের নতুন বাংলাদেশের পক্ষে আনতে হবে। যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে হবে। এই বাংলাদেশ যারা গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের হাতেই আমরা ৩০০ আসনে মার্কা তুলে দিয়েছি।</p>
<p>সম্মানিত বন্ধুগণ, এই মার্কা হচ্ছে স্বাধীনতা রক্ষার মার্কা। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মার্কা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মার্কা। এ মার্কার সাথে আপনারা সবাই আছেন? আপনারা থাকলে হয়ে যাবে। গোটা ফেনীকে একদম চাষ করে ফেলতে হবে। একটা মানুষও বাদ যাবে না। যারা দেশকে, মানুষকে ভালোবাসে, আমরা বিশ্বাস করি তারা ১২ তারিখ প্রথম ভোটটা দিবে ‘হ্যাঁ’-তে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে বাকি ভোটের মূল্যায়ন হবে। ‘হ্যাঁ’ পরাজিত হলে বাকি ভোটের আর মূল্যায়ন হবে না। সুতরাং প্রথম ভোট কিসে হবে? ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আজাদি না গোলামি? লিল্লাহি তাকবীর! আল্লাহু আকবার!</p>
<p>দ্বিতীয় ভোটটি হবে—আমি আগেই বলেছি—বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেফাজত কায়েমের পক্ষে। এই রাজনীতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই। রাজার ঘরে জন্ম নিলেই রাজা হওয়া যাবে না। মন্ত্রীর ঘরে জন্ম নিলেও মন্ত্রী হওয়া যাবে না। তার আপন যোগ্যতা যদি থাকে, সে কেবল এই কাজের জন্য নির্বাচিত হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—একজন সাধারণ রিক্সাচালক ভাই, তার সন্তানের মেধা বিকাশের মাধ্যমে একদিন যেন সেও এদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, ওই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি—যেটা ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে, ডুবিয়ে দিয়েছে—ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আপনারা প্রস্তুত? আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p>আমাদের কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সমান। এই আসমানের ছাদের নিচে আর এই জমিনের বিছানার উপরে বাংলাদেশে যারা বসবাস করবে, আমরা তাদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ এই কাজে আমরা এগিয়ে যাব। কেউ বাধা দিয়ে আমাদেরকে আটকাতে পারবেন না।</p>
<p>বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম হালত দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কি করবেন আপনারা? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। একটু জুলাই যোদ্ধাদেরকে সম্মান করুন। এতগুলা শহীদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল—তাদেরকে একটু সম্মান করুন। সেই সম্মানটা করলে মাথা গরমের কোন সুযোগ নেই। কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের উপরে কেউ কেউ হাত দিয়েছেন। আমরা তাদেরকে অতি বিনয়ের সাথে আহ্বান জানাবো—মা-বোন আপনাদেরও আছে। নিজেদের মা-বোনদেরকে একটু সম্মান করুন। তাহলে বাংলার সবগুলা মাকে বা বোনকে আপনারা সম্মান করতে পারবেন। মাদের সম্মান নিয়ে টান দেবেন না। মায়ের একটা দীর্ঘশ্বাস আপনাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেবে। কারণ কোন মানুষ দুনিয়ায় মায়ের পেট ছাড়া আসতে পারে নাই। দুইজন ছাড়া—হযরতে আদম আলাইহিস সালাতু সালাম এবং হাওয়া আলাইহিস সালাতু সালাম। ঈসা নবীর পিতা ছিলেন না কিন্তু মা ছিলেন হযরতে মরিয়ম আলাইহিস সালাতু সালাম। বাকি সবাই মায়ের গর্ভে আমরা জন্ম নিয়েছি।</p>
<p>আমার ভাই শহীদ শরিফ, উসমান, হাদি—কি দোষ ছিল তাদের? আবু সাঈদের কি দোষ ছিল? যেই ছেলেটি দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় এসে বলেছিল, ‘হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে একটা গুলি দে।’ বুক পেতে বলেছিল, ‘বুকের ভিতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ এক, দুই, তিন গুলি করেছে; আবু সাঈদ দৌড় দেয়নি। কারণ বীরেরা পালায় না। বীরেরা মোকাবিলা করে, এগিয়ে যায়। জাতিকে পথ দেখায়, আলো ছড়ায়। বীর জন্ম দিতে মাদেরকে উৎসাহিত করে। মহান প্রভুর দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ বাংলাদেশের মায়েদের পেটে সাধারণ সন্তান নয়, বীরেরাই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>যুবসমাজ, আমরা বন্ধু তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে পারবো না। বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের প্রত্যেকটা হাতকে দেশগড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই এবং তোমাদের হাতে আমরা মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। সেদিন প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী দাঁড়িয়ে নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলবে—‘আমি বাংলাদেশ। এদেশ আমার, এদেশ আমি গড়ব। এদেশের জন্য দিয়েই চলব। এদেশ আমাকে যা দিবে আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু আমি আমার সবকিছু উজাড় করে এই দেশকে দেব। আমি বসে বসে বেকার ভাতা খাবো না।’</p>
<p>মা-বোনেরা—বলা হয়, ওদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে দেবে না। আমাদের মা-বোন আছে না? আমার স্ত্রী-কন্যা আছে না? অবশ্যই আছে। আমাদের সকলের আছে। তারা কি ঘরেই বসে আছে, নাকি দুনিয়ার সাথে অনেক কিছুতে অবদান রাখে? অবশ্যই অবদান রাখে। তারা যদি ঘরের বাইরে গিয়ে অবদান রাখতে পারে, তারা যদি উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে, তারা যদি দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মাকে আমরা সেইভাবেই গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=hW46YmSd9QE">বক্তব্যটি জামায়াতের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়, কিন্তু শেষ মুহুর্তে লাইভ সিগন্যাল ডিসকানেক্ট হওয়ায় কিছু অংশ রেকর্ড হয়নি।</a></p>
]]></content:encoded></item><item><title><![CDATA[লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও আগামীর অর্থনীতি: ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে আমীরে জামায়াত]]></title><description><![CDATA[আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। বিভিন্ন ধর্মের যে সমস্ত ব্যবসায়ী বন্ধুরা রয়েছেন তাদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং গভীর শ্রদ্ধা। সম্মানিত বন্ধুগণ আপনারা কেমন আছেন সবাই? আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়াসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিহিল কারী...]]></description><link>https://leaderspeaks.hashnode.dev/the-economy-of-the-future-ameer-e-jamaat-to-businessmen</link><guid isPermaLink="true">https://leaderspeaks.hashnode.dev/the-economy-of-the-future-ameer-e-jamaat-to-businessmen</guid><category><![CDATA[জামায়াত]]></category><category><![CDATA[আমীরে জামায়াত]]></category><category><![CDATA[Jamaat-e-Islami]]></category><category><![CDATA[Jamaat]]></category><category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category><category><![CDATA[bangladesh]]></category><dc:creator><![CDATA[Ahmod Musa]]></dc:creator><pubDate>Thu, 29 Jan 2026 16:00:00 GMT</pubDate><enclosure url="https://cdn.hashnode.com/res/hashnode/image/upload/v1769831639792/8eaa2764-0938-42f8-8d00-333efde3d320.png" length="0" type="image/jpeg"/><content:encoded><![CDATA[<p>আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। বিভিন্ন ধর্মের যে সমস্ত ব্যবসায়ী বন্ধুরা রয়েছেন তাদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং গভীর শ্রদ্ধা। সম্মানিত বন্ধুগণ আপনারা কেমন আছেন সবাই? আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়াসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম ওয়ালা আলিহি ওয়াসাহবিন। মহান আল্লাহ তাালার শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ তাআলা আরশে আজিমের ছায়ার নিচে সাত সম্প্রদায়ের মানুষকে হাশরের কঠিন দিনে এট দা ডে অফ ফাইনাল জাজমেন্ট শেল্টার দিবেন, আশ্রয় দিবেন। এর মধ্যে সৎ ব্যবসায়ী যারা তারা আশ্রয় পাবেন। আমি বিশ্বাস করি আজকের এই গ্যাদারিং-এ এরকম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অনেক ব্যবসা রয়েছেন। আল্লাহ তাআলা দুনিয়া এবং আখেরাতে তাদের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দিন এবং তাদের উসিলায় আমরাও যেন একটু জায়গা পাই সেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়ায়।</p>
<p>সম্মানিত ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি বন্ধুগণ, ভাই ও বোনেরা, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয় যে আজকে আপনাদের সামনে আজকের এই সন্ধ্যায় আমি মিলিত হতে পারলাম। আবার একই সাথে আমার জন্য শিক্ষা নেওয়ারও বিষয়। আমি সবসময় বলে থাকি দেশে কিংবা প্রবাসে যেখানেই যাই যে আমি শিখতে এসেছি। শিখার কোন শেষ নেই। আর আমার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আমার হিসাবে খুবই সীমিত। এই সীমিত জ্ঞানের মানুষ যদি সমাজের জন্য ভালো কিছু করতেই চাই তাহলে ওই নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে মিনিমাম জ্ঞান তো আমার থাকতে হবে। আর মানুষ এই জ্ঞান নিয়ে দুনিয়ায় জন্ম নেয় না। জন্ম নেওয়ার পরে মানুষ আস্তে আস্তে তাকে চার্জ করে এবং সে শিখে শিখেই বড় হয়। তা আমি এমনই একজন লার্নার, ইউনিভার্সাল লার্নার। সবার কাছ থেকে শিখতে চাই। শেখার মধ্যে আনন্দ পাই। আজকে এখানে আমি আসলেই আমার বক্তব্য শোনাতে আপনাদেরকে কষ্ট দেইনি, দাওয়াত করিনি। আপনাদের বক্তব্য শোনার জন্য দাওয়াত করেছি। এই আমরাই বাংলাদেশ। আমাদের কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ নয়।</p>
<p>কোন সমাজের অর্থনীতির চাকা যতটা সচল থাকে সেই সমাজই দুনিয়ায় সম্মানের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। অর্থনীতির বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্রে আপনারা বসে আছেন। আমি সুযোগ পেয়েছিলাম আল্লাহ তাআালার পক্ষ থেকে একসময়কার বাংলাদেশের সবচাইতে বড় প্রাইভেট সেক্টর ব্যাংকে ছয় বছর বসার সুযোগ পেয়েছিলাম। একজন লার্নার হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে বুঝার জন্য কন্ট্রিবিউশন কতটা করতে পেরেছি আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ এই ছয় বছরে কিছু শিখার সুযোগ আমার হয়েছে। ব্যাংকের কাছ থেকে সুযোগ নিয়েই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতাম আননোটিসড। গিয়ে বলতাম যে চলে এসেছি আপনাকে দেখতে। নোটিস দিয়ে গেলে অনেক সময় টপ ড্রেসিং করে রাখা হয়। কিন্তু ওয়ালেটে সারডেন গেলে সেই প্রস্তুতির সুযোগ থাকে না, অরিজিনাল জিনিসটাই আসলে রিসিভ করার, দেখার, অবজার্ভ করার সুযোগ হয়।</p>
<p>ব্যাংকিং সেক্টরের সাথে ফিনান্সিয়াল যে চেইন আছে তার সাথে স্টক মার্কেটের একটা রিলেশন আছে। আমি যে ব্যাংকের ক্ষুদ্র সদস্য ছিলাম সেই ব্যাংক আবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারেজ হাউজের একটা সদস্য ছিল। আমরা সেই ক্ষেত্রেও আমাদের করণীয়টা তুলে আনার জন্য, বুঝার জন্য চার সদস্যের একটা টিম ছিল। সেখানে আমিও ক্ষুদ্র একটি জায়গা পেয়ে গেছিলাম। এই দুইটা সেক্টরকেই মিলিয়ে দেখার সুযোগ হয়েছে। নন ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল সেক্টর যেগুলা আছে, লিজিং এন্ড ফিনান্সিং কোম্পানি যেগুলা, তারাও ব্যাংক থেকে ল্যান্ডিং করেন। ল্যান্ডিং করে তারা সাবল্যান্ডিং করেন পাবলিকের কাছে। সেগুলোও দেখার সুযোগ হয়েছে। এই সময়টা বাংলাদেশের অর্থনীতি মোর অর লেস হেলদি ছিল। তারপরে বারবার আমরা বাধার সম্মুখীন হয়েছি। শেয়ার মার্কেট আমাদের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর আমাদের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ব্যাংকের সাধারণ মানুষেরা টাকা জমা রাখে। তারা কিন্তু ব্যবসা করে না। ব্যবসা করার সেই অভিজ্ঞতাও নেই। তাদের সেই এন্টারপ্রেনিয়রশিপও নেই। সেই টাকাগুলো তারা তুলে দেয় আমানত হিসাবে। যারা এগুলাকে কাটানোর অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা রাখেন তাদের হাতে। এটি ট্রেড এন্ড বিজনেসও হতে পারে। আবার এটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর হতে পারে।</p>
<p>আমরা গণ্য করি দেশের তিনটা সেক্টরকে সমান্তরাল ডেভেলপ করলে আমাদের দেশ ডেভেলপ হওয়ার সুযোগ পাবে ইনশাআল্লাহ। নাম্বার ওয়ান আমাদের দেশটিতে হিউম্যান ইন্ডাস্ট্রি। হিউম্যান রিসোর্স যদি প্রপারলি ডেভেলপ করা না যায় তাহলে কোন ইন্ডাস্ট্রি ফাংশন করবে না। কারণ সবকিছুর পিছনে মানুষের ব্রেইন এবং যোগ্যতা, তার মেধা এবং পরিশ্রম। চারটা জিনিসের সমন্বয় যদি হয় কোন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। আমার পার্সোনাল লাইফে সামান্য ব্যবসার সাথে সংযুক্ত থাকার ফলে আমি এটা বুঝার সুযোগ পেয়েছি। নাম্বার ওয়ান- তার ইন্টেনশনটা হবে ফেয়ার। আনফেয়ার কোন ইন্টেনশন থাকবে না। যেটাকে মুসলমানরা বলে থাকেন সহি নিয়ত। নাম্বার টু- তার মিনিমাম উইজডম থাকতে হবে। অর্থাৎ ওই ব্যবসা সম্পর্কে তার একটা নো হাও লাগবে। বেসিক জিনিসগুলা যদি তার নলেজে থাকে তাহলে সাবস্টেন্সিয়াল ডেলিভারি তিনি দিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। নাম্বার থ্রি হচ্ছে কারেজ; মাথা তুলে দাঁড়ানোর, ঘুরে দাঁড়ানোর একটা মানসিকতা, ফাইটিং এটিচিউড থাকতে হবে- ইনশআল্লাহ আমি এটা পারবো।</p>
<p>আমরা ২৭টি কোম্পানির উপর সার্ভে করেছিলাম যেগুলা বাংলাদেশে বলতে পারেন বিজনেস ম্যাগনেট। অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেন না। তাদের কোম্পানির উপরে যে আমাদের সার্ভে হয়েছে, আমরা দেখতে পেলাম ২৭টির মধ্যে ২১টি কোম্পানি এমন যাদের বাপ-দাদার কোন পুঁজি তাদের কাছে রেখে যাননি। নিজেরা ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে, তার ইন্টেনশন নিয়ে, তার কারেজ নিয়ে এবং তার যে ইনিশিয়েটিভ সেইটা নিয়ে তিনি এগিয়ে এসেছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ এখন তাদের ডাইভার্সিটি অনেক। অনেকগুলা সিস্টার কনসার্ন তাদের। ম্যাক্সিমাম ফেয়ার ব্যবসা করেন, তাদেরকে আমরা আনফেয়ার পাইনি। তাদের মেইন পুঁজি ছিল তাদের গুড ইন্টেনশন, তাদের উইজডম, তাদের কারেজ এবং তারা ছিলেন ইফর্টেব। তারা সাফিশিয়েন্ট ইফর্ট দিতেন। তারা ব্যবসার মালিক হয়ে অফিসে বসে থাকতেন না। তারা ঘুরে ঘুরে ঘাম জড়িয়েছেন এবং একই সাথে তাদের ওয়ার্কিং ম্যানপাওয়ারকে তাদের সাথেই দৌড়াতে বাধ্য করেছেন। যদি এই চারটা জিনিসের সমন্বয় হয় তাহলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। যদি ন্যাচারাল কোন ডিজাস্টার না আসে। ফর এক্সাম্পল করোনার সময় অনেক সৎ ব্যবসায়ী বিপদে পড়ে গেছে কিন্তু তাদের রিকভারিও হয়ে গেছে। তারা সময়ের কনস্ট্রেইনে পড়লেও এটা ওভারকাম করতে তাদের সমস্যা হয়নি।</p>
<p>বাংলাদেশ খুবই ছোট্ট একটি দেশ, আ লিটল পিস অফ ল্যান্ড। বাট আলহামদুলিল্লাহ উই হ্যাভ সাফিশিয়েন্ট ম্যানপাওয়ার, ১৮০ মিলিয়নস অফ পিপল। দুনিয়ার বহু দেশে আড়াই লাখ তিন লাখ মানুষ আছে। তাদেরকেও দুনিয়া গনে। কাতারের মত একটা দেশ, তাদের নিজস্ব সিটিজেনের সংখ্যা হলো মাত্র পৌনে চার লাখ। আর তাদের ওখানে ফরেন যারা কাজ করেন তাদের সংখ্যা ৭ লাখ। পৌনে ১১ লক্ষ মানুষের দেশ হচ্ছে কাতার। বাট বিশ্বের মানচিত্রে তাদের একটা জায়গা আছে। তাদের ল্যান্ড আমাদের চেয়ে বড় নয়। মানুষ খুবই কম। দারুসসালাম ব্রোনাই ১০ ঘন্টার জন্য আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ছোট্ট দেশ আমাদের একটা উপজেলার সমান। আল্লাহ তাদেরকে হিউজ রিসোর্সেস দান করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তারা এটা থেকে ডিপ্রাইভ ছিলেন। তারা যখন তাদের অটোনমি এবং তাদের লিবার্টি ফিরে পেয়েছেন, ইন্ডিপেন্ডেন্স ফিরে পেয়েছেন তখন থেকে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।</p>
<p>আমাকে দুটি জিনিস দারুণ চমকৃত করেছে। সেই দেশের নাম্বার ওয়ান রাজার বাড়িতে কোন হিউম্যান সিকিউরিটি নাই। আমি অবাক হয়ে গেলাম। যে মানুষের তো শত্রু থাকে, যত ভালো মানুষ হোক তার নাই কেন? আমার গাইড তিনি একজন ওই দেশে আমাদের বাংলাদেশী একজন মেডিকেল কনসাল্ট্যান্ট তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি বললেন উত্তর আমি দিব না। আপনি ন্যাচারালি পেয়ে যাবেন। আরো কিছু সময় আমার সাথে কাটান। তাদের রিসোর্টগুলাতে গেলাম। সেভেন স্টার হোটেলে গেলাম। তাদের টুরিস্ট স্পটে গেলাম। তাদের দেশটা ঘুরায়ে দেখলাম। একটা মেডিকেল কলেজে ঢুকলাম। একটা হসপিটালে ঢুকলাম। একটা ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকলাম। ১০ ঘন্টার ভিতরে এসব কাজ। সেখানে কোন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নাই। ট্রাম নাই, রেলগাড়ি নাই, বাস নাই। একজন লেবার প্রত্যেকের একটা ট্যাক্সি আছে। কার আছে। মিনিমাম।</p>
<p>একটা পর্যায়ে আমার গাইড বললেন যে আপনার কিসমত সম্ভবত ভালো। আমি বললাম যে আমার তো কিসমত এমনেই ভালো আছে। সম্ভবত ভালো হবে কেন? নাইলে এখানে আসলাম কিভাবে? বলল যে না আপনি সম্ভবত রাজার সালাম পেয়ে যাবেন। রাজার সালাম। বলে যে হ্যা, ওয়েট ফর আ মিনিট। দেখি যে এক মিনিটের ভিতরে কিং নিজেই তার জিপটা ড্রাইভ করে আসতেছেন। তার আগে পিছে কোন স্কট নাই। ইভেন একটা বাইকও নাই। তিনি ডানদিকে ড্রাইভ করে সালাম দিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু আমাকে না, তার সমস্ত জনগণকে। আমি বললাম দ্যাট ইস হোয়াই তার কোন এনিমি নাই। যে তার প্রত্যেকটা নাগরিককে সম্মান করতে জানে তার এনিমি থাকবে কেন?</p>
<p>সন্ধ্যাবেলা গেলাম ওয়াটার ভিলেজ ভিজিট করতে। মনে হলো যেন সেখানে আলহামদুলিল্লাহ জোনাকি চমকাচ্ছে। এত সুন্দর করে ডেকোরেট। সেই ভিলেজের উপরে শুধু ইউনিভার্সিটি ছাড়া এভ্রি সোশাল ফ্যাসিলিটি আছে। কলেজ আছে, হসপিটাল আছে, স্কুল আছে, মাদ্রাসা আছে, আরো যত নাগরিক সার্ভিস, পরিসেবা সব আছে। তা আমি বললাম যে এত কস্টলি এস্টাবলিশমেন্ট এখানে গেল কেন তারা? তখন গাইড জবাব দিলেন যে এরা বংশগতভাবে পানির সাথে মিলেমিশে আছে। ফিশিং হলো তাদের পেশা। তারা পানি ছাড়তে চায় না। তখন রাজা বলেছে ওকে পানিতেই থাকো। তবে সমতলের মতই থাকবা। কোন কিছুর অভাব হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম আমাদের যে সমস্ত লোক এখানে কাজ করে ছোট ছোট কাজ তাদের স্যালারি কত? তখনকার হিসাবে আমি দেখলাম যে ১ লক্ষ ১০ হাজার পর্যন্ত আছে। নিচে ৮০ হাজার। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা চলাচল করে কেমনে? বলেছে এদেরও প্রত্যেকের একটা করে ট্যাক্সি আছে। অভাব নেই।</p>
<p>এই দেশটা দুনিয়ার সবচাইতে ধনী দেশ নয়। কিন্তু তাদের পরিবেশ সবচেয়ে ধনী। এই দেশে কোন ডিস্যাটিসফ্যাকশন নেই। প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজেকে নিয়ে স্যাটিসফাইড। বাট আমি যদি আমাদেরকে প্রশ্ন করি হোয়াট এবাউট উই পিপল? তাহলে অবভিয়াসলি আনসার আসবে উই আর নট স্যাটিসফাইড। যিনি ব্যবসায়ী তিনিও স্যাটিসফাইড না। যিনি হোলসেলার তিনিও স্যাটিসফাইড না। যিনি রিটেলার তিনিও স্যাটিসফাইডাই না। যিনি কনজিউমার তিনিও স্যাটিসফাইড না। যিনি ম্যানুফ্যাকচারার বা প্রডিউসার তিনিও স্যাটিসফাইড না। প্রত্যেকটার কিন্তু জেনুইন আনসার আছে। কেন স্যাটিসফাইড না। আমার কাছে মনে হয়েছে সবগুলো আনসারের গুড়ায় একটা কজ রয়ে গেছে। সেই কজটা হচ্ছে নিজেকে না চিনা। হু আই এম। যদি আমরা নিজেকে চিনতে পারি আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাইকে চিনতে পারবো।</p>
<p>আমি প্রাউড ফিল করি আমি একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান। আমি ছোটবেলা পানি এবং কাদায় গড়াগুড়ি করেছি। বাপের সাথে হাল চাষ করেছি। যারা প্রান্তিক মানুষ, যাদেরকে মানুষ ক্ষেত মজুর বলে তাদের দুঃখগুলা দেখার সুযোগ হয়নি। একসময় বাংলাদেশে এমন অবস্থা ছিল দুইটা মাস আসলে ওই মানুষগুলার গালের চামড়া হাড্ডির মধ্যে ডেবে যেত। একটা কার্তিক মাস আরেকটা চৈত্র মাস। এই দুই মাসে ফেমিন হতো। মানুষ কষ্ট করতো। সেই দিকগুলা দেখে দেখে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বড় হওয়ার তৌফিক দিয়েছেন। আমি কখনো ভুলবো না ওই মাটি, ওই কাদা এবং ওই পানি। কখনো ভুলতে পারবো না ওই মানুষের চেহারাগুলোকে।</p>
<p>আমরা কিভাবে এখানে বসলাম? আমি কিভাবে এখানে দাঁড়ালাম? আমাদের বসা এবং দাঁড়ানোর পক্ষে শুধুমাত্র আল্লাহর দেওয়া আমার মেধা আর আমার মা-বাপের সাপোর্টই কিন্তু এখানে আমাদেরকে আনে নাই। আমরা সবাই লেখাপড়া করেছি। প্রাইমারি থেকে ইউনিভার্সিটি। কেউ আবার দেশের বাইরেও করেছি। দেশের ভিতরে থাকা অবস্থায় যত লেখাপড়া করেছি, হেন্স ফ্রম প্রাইমারি টু ইউনিভার্সিটি, প্রত্যেকটা লেভেলে এই দেশের রাস্তার আমার একজন ভিক্ষুক ভাই এবং বোন থেকে শুরু করে আজকে জন্ম নেওয়া বেবিটা থেকে শুরু করে সবার কন্ট্রিবিউশন আমার পিছনে আছে। সবার ট্যাক্স এবং সবার উপর লোনের যে ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশন পর্শন, ওইটাই আমার প্রাইমারি স্কুলের স্কুল গড়ে দিয়েছে, আমার শিক্ষকের বেতন দিয়েছে, পিয়নের বেতন দিয়েছে, আমার বই খাতার সরকার যে ফ্রি দেয় ওগুলার কস্ট যুগিয়েছে। আমার সন্তানকে এখন যোগাচ্ছে একেবারে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত। এখানে সবার কন্ট্রিবিউশন। আমাদের দেশের গরীব মানুষেরাও কিন্তু ট্যাক্স দেয়। যারা বড় বৃত্তশালী মানুষ তারা আরো বেশি দেন। গরীবরা যখন কিছু কিনতে যায় তাদেরকেও ভ্যাট দিতে হয়, ট্যাক্স দিয়েই তার সন্তানের জন্য কিনতে হয়। নিজের জন্য কিনতে হয়। নিউবর্ন বেবির জন্য যদি কেউ কিছু অগ্রিম কিনতে যায় যে আমার বেবি আগামীকাল আসবে, যেটাই আসুক কিছু কমন জিনিস আছে এটা কিনে রাখে, সেখানেও ভ্যাট দিতে হবে। কাজেই এভরিওয়ান ট্যাক্স পেয়ার। ম্যাক্রো অর মাইক্রো। সবাই কিন্তু ট্যাক্সপেয়ার। এই ট্যাক্সগুলা মিলেই আমাদের রেভিনিউ। আর বৈদেশিক ঋণ এবং সাহায্য নিয়ে বাকি অর্থনীতির অপূর্ণ অংশটা আমাদের কাভার হয়। কাজেই আমরা যদি এই জিনিসটা চিন্তা করি যে এই সমাজ আমাকে বিল্ড আপ করেছে আমার প্রিয় সমাজের প্রতি আমার একটুখানি দায় আছে। এই ফিলিংসটা যদি আমাদের মাঝে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আমরা একটা বেটার নেশন বিল্ড আপ করতে পারব।</p>
<p>আমরা দেখি শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে শ্রমিক শ্রেণীর ঝগড়া লেগে অনেক সময় ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। আগুনও লাগায়ে দেয়। এখানে একটা ক্লাস। শ্রমিক ভাইয়েরা যখন আসে আমি তখন আপনাদের পক্ষে দালালি করি। আর আপনাদের কাছে যখন যাই তখন আমি শ্রমিকের পক্ষে দালালি করি। এটা আমার নেচার। শ্রমিকরা আসলে বলি দেখো তোমার রিজিকের ঠিকানাটা ঠিক থাকলে তোমার সব ঠিক থাকবে। এটা যদি শেষ হয়ে যায় তুমিও ঠিক থাকবা না। তুমিও শেষ। সুতরাং শিল্পকে কিভাবে ব্যবসাকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবা এতে তোমার দায়িত্ব আছে। দায় আছে। তুমি যদি সন্তানের মত তোমার এই শিল্প এবং ব্যবসাকে ভালোবাসো তাহলে শিল্প তোমাকে সন্তানের মত তার বুকে স্থায়ী দিবে। আর তুমি যদি সময় পাস করার জন্য অথবা নিরেট তোমার নিজের সুবিধাটা নেওয়ার জন্য এখানে আসো তাহলে তোমার দ্বারা বড় কোন উপকার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরঞ্চ তোমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।</p>
<p>আর আপনাদের কাছে যখন যাই তখন বলি যে আপনাদের সন্তানেরা হয়তোবা অনেকে দেশেও থাকে না। অথবা কেউ কেউ থাকলেও আপনাকে হয়তো এসিস্ট করে একটু হাইয়ার পজিশন থেকে। ওখানে শ্রমিকদের সাথে গিয়ে তার কাজ করার কথা নয়। আপনার শিল্পের চাকাটা কিন্তু ওই ঘাম জড়ানো শ্রমিকরাই চালায়। এগুলাকে যদি আপনি সন্তান হিসেবে ধারণ করেন তাহলে তারাও আপনাকে পিতা হিসেবে মর্যাদা দেবে। প্রত্যেকটা মানুষ কিন্তু একটু একটুখানি সম্মান চায়। সে মানুষটা যতই যে পরিমাণ শিক্ষিত হোক আর তার সামাজিক মর্যাদা যাই হোক না কেন সবার একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। এই জায়গায় যদি আপনি একটু স্নেহ করেন আপনাকে সে তার সবকিছু উজাড় করে দেবে। ছোট্ট একটা প্রতিষ্ঠানের আমার সেবা করার সুযোগ হয়েছিল। আমি কোনদিন আমার কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে পুরুষ হলে দ্বিতীয় কোন মানুষের সামনে তার ভুলের জন্য আমি কোন কথা বলি নাই। আমি তাকে একা নিয়ে বসতাম আর বলতাম আপনিই তো এই প্রতিষ্ঠান। আপনি ছাড়া তো আমার এই প্রতিষ্ঠান কল্পনা করতে পারি না। এই কাজটা হয়েছে কিনা আমি জানিনা। হলে তো এটা একটু অন্যরকম হয়ে গেল। তারা অকপটে স্বীকার করতো। কেউ কান্নাকাটি করতো বলতো দোয়া করেন এটা আমার দ্বারা জীবনে আর আরেকবার হবে না এবং আমি স্যাটিসফাইড যে ওই ব্যক্তিটির দ্বারা এই ধরনের কাজ আর হয় নাই। আমি কাউকে গালি দেই নাই, ধমক দেই নাই, বেতন কাটি নাই, সুবিধা কাটি নাই, সাসপেন্ড করি নাই। আমি তাদের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি।</p>
<p>মহিলা হলে আরেকজন মহিলাকে ডাকতাম। একা ডাকে আর ওরে আগে কসম করাইতাম, সাবধান এটা ডিসক্লোজ করতে পারব না। এখন যত আলাপ হবে যদি মা তুমি ডিসক্লোজ করো তাইলে তোমার ঠিকানা এখানে থাকবে না। তোমাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে। আমি ওই মেয়েটাকে এনেছি সাহায্য করার জন্য। কিন্তু কিছু কথা বলব এটা হয়তো কষ্টের। তুমি এটা আর কাউকে বলবা না। যদি তুমি এই ওয়াদা রক্ষা করতে পারো থাকো না হয় আমি অন্য কাউকে ডাকবো। তো ওরা তো স্বাভাবিক বলতো যে আমরা ওয়াদা রক্ষা করব। ইনশআল্লাহ আমরা ডিসক্লোজ করব না। তখন একই কথা বলতাম। কাউকে এমনকি চোখটা লাল করেও তাকাইতে ভয় পাইতাম। আল কাসিবু হাবিবুল্লাহ, শ্রমিকরা হচ্ছে আল্লাহর রাসূলের বন্ধু। আমি কি আল্লাহর রাসূলের বন্ধুকে ধমক দেওয়ার কোন অধিকার রাখি? আমাকে এই অনুভূতি তাড়া করতো। আলহামদুলিল্লাহ আমার প্রতিষ্ঠান সফল না বিফল এটা যারা সেবা নেয় তারা বলবে। কিন্তু আমি আমার সহকর্মীদের উপরে খুবই স্যাটিসফাইড। ১৪ সাল থেকে আমি প্রতিষ্ঠানের কোন পরিচালনার দায়িত্বে কোনভাবেই নাই, ডিরেক্ট ইনডিরেক্ট। যাদের উপর ছেড়েছি একদিনও ফোন করে জিজ্ঞেস করি না এইটা কি ওইটা কি। আমি তাদের উপর আস্থা রাখি। আমি বিশ্বাস করি তারা এই সন্তানকে নিজের কোলে তুলে রেখেছে এবং পারবে। আমি এই গল্প কেন যে শুনাইয়া আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করলাম আমি জানিনা। যদি এর মাঝে কোন কল্যাণ থাকে আল্লাহ যেন আমাদেরকে কল্যাণ দেন।</p>
<p>প্রিয় বন্ধুরা আমরা ফিল করি আপনাদের হাত ছাড়া এই সমাজের চাকা চলবে না। গরীব ধনী সকলের রিজিকের সংকলন আপনাদের উসিলায় আল্লাহ তাআলা দিয়ে থাকেন। সুতরাং এই জায়গার বুঝা পড়াটা খুবই প্রয়োজন। এই বুঝাপড়াটা আজকে আমি শিখবো। আমরা এই দেশ এবং জাতির সেবা করছি। তাই স্বচ্ছতার সাথে, আন্তরিকতার সাথে। এই দুইটাই আমাদের পুঁজি। ট্রান্সপারেন্সি এন্ড সিনসিয়ারিটি। আপনারা আমাদেরকে কি রিকমেন্ডেশন করবেন? কি চান আমাদের কাছে? আমাদের চাওয়া আপনাদের কাছে, আপনাদের উত্তম পরামর্শগুলো আপনাদের কি চাওয়া সেটা আমাদের জানা দরকার। তবে একটা কনফিউশন দূর করেই আমি আপাতত একটা কলন ড্যাশ দিব ইনশাআল্লাহ বা সেমিকলন দিব। আমি আমেরিকায় একটা মিটিং এ বলেছিলাম মায়েদের প্রতি রেসপেক্ট শো করার জন্য আমরা তাদের কর্মঘন্টা আট থেকে তিন বাদ দিয়ে পাঁচে রাখবো। পাঁচ ঘন্টায় একটা বক্তব্য সবকিছু আর্টিকুলেট করা যায় না তার কিছু অবশ্যই ব্রেকআপ থাকে। কিন্তু আমরা খুব তড়িৎপ্রবণ মানুষ খুব সাথে সাথে সবকিছু পেতে চাই। না পাইলে আমরা অস্থিরতায় ভুগি। আপনাদের কথা বলছি না। আমি যারা অস্থির হয়েছিলেন তাদের কথা বলতেছি।</p>
<p>তারা তখন একটা কথা চালু করে দিলেন যে এই সমাজে তো মহিলাদের প্রয়োজন আছে। তাদের পরিবারের প্রয়োজন আছে। এমনিই মহিলারা কর্মে ফ্যাসিলিটি একটু পিছনে। আবার যদি কর্মঘন্টা কমিয়ে দেওয়া হয় তাইলে মালিক পক্ষ কেন মহিলাদেরকে বা নারীদেরকে রিক্রুট করবে? আমরা কি বলতে চেয়েছিলাম? আমরা বলতে চেয়েছিলাম কিছু বৈশিষ্ট্য আল্লাহ তাআলা নারীদেরকে দান করেছেন যেটা আমাদের নাই। আমরা ১০ জন মিলেও একটা বাচ্চা পেটে নিতে পারবো না। এই কোয়ালিটি আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দান করেছেন। গর্ভে নিতে পারলাম না। বুকের দুধও দিতে পারবো না। এটাও আমাদের কোয়ালিটি নাই। এরপরে মায়ের বুককে বিছানা বানিয়েই সন্তানরা বড় হয়। আমরা সবাই বড় হয়েছি। আমার মাকে সবাই সম্মান করুক। আমি সবার কাছে এটা চাই। তাহলে সমাজের মাদেরকে সম্মান করা তাদের সন্তানেরা কি চায় না? তারা তো চায়। তারা গর্ভে সন্তান ধারণ করবেন। দুই থেকে আড়াই বছর দুধ খাওয়াবেন। আবার আপনার আমার মত আট ঘন্টা সমান, তাহলে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। ইজ ইট জাস্টিস? নেভার জাস্টিস। এটা বার্ডেন ইমপোসড আপন দোস পিপল। আমরা এটা করতে পারি না। এই সময়টা আমরা চাই তারা যেন কমফর্টেবলি তার কাজের সাথেও সংযুক্ত থাকতে পারেন আবার তার সন্তানেরও মিনিমাম অধিকারটা দিতে পারেন, লুক আফটার করতে পারেন।</p>
<p>বহু মা আট ঘন্টা ঘরের বাইরে সন্তান রেখে থাকতে চান না, চাকরি ছেড়ে দেন। তার তো চাকরি যাচ্ছে না। তার চাকরি তার গায়ের সাথে লেগে আছে। প্রশ্ন উঠবে এই যে তিন ঘন্টা তিনি কাজ করবেন না। হু উইল কমপেনসেট? ইয়েস ইট ইজ গভমেন্ট। এটা গভমেন্টের রেসপন্সিবিলিটি। মায়ের জাতিকে সম্মান দেখানো। সোশাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট কি জন্য? এই লোকদের ওয়েলফেয়ার করার জন্য। আমি নিশ্চিত আমি যদি আমার মাকে সম্মান করতে পারি তাইলে সমস্ত নারী জগতকে আমি সম্মান করতে পারবো ইনশআল্লাহ। সেই সম্মানটাই আমরা দিতে চেয়েছি। এরপরে এটাও বলেছি কোন মা যদি ফিল করেন এক বছরের মাথায় আই এম এবল টু ডু, আমি পারব, মোস্ট ওয়েলকাম। তিনি করবেন। তাকে কম্পেল করা হবে না দুই থেকে আড়াই বছরে অপরচুনিটি নিতে। শি উইল বি এপ্রিশিয়েটেড। তাকে আমরা এপ্রিশিয়েট করবো ইনশাআল্লাহ। এখন কথা হলো প্রথম দিনেই কি এটা হবে? না হবে না। এটা গ্রাজুয়েল প্রসিজারের ভিতর দিয়ে যেতে হবে আমাদেরকে ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>শিল্প মালিকদের তিনটা বড় সমস্যা আমি মনে করি। এর বাইরেও থাকতে পারে। নাম্বার ওয়ান তাদের সিকিউরিটি অফ দি ফান্ডের অভাব। সিকিউরিটি অফ দা ওয়েলথ, এটার অভাব। এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। বরঞ্চ জায়গায় জায়গায় লাল ফিতার টানাটানি। যার কারণে যে যে শিল্পের জন্য আপনি একটা টাইম স্টিপুলেট করেছেন, আপনি স্টিপুলেটেড টাইমের ভিতরে আপনি ইনসিপশনে যেতে পারছেন না, অপারেশনে যেতে পারছেন না। কিন্তু আপনি তো ব্যাংকের ঋণ নিয়ে বসে আছেন। ওই ঋণ তো আপনার জন্য ইন্টারেস্ট প্রোডাকশন করতেছে বা প্রফিট প্রোডাকশন করতেছে। আপনাকে তো ক্ষমা করছে না। তা আপনি শুরুতেই তো লোকসানে পড়ে যাচ্ছেন। লাল ফিতা শুধু কি সময়ক্ষেপন? না, বেসরকারি একটা ট্যাক্স দিয়ে আগাইতে হয়। আমাদের একজন প্রয়াত ফিনান্স মিনিস্টার বলেছিলেন এটাকে ঘুষ বলবেন না এটাকে স্পিড মানি বলবেন। আরে স্পিড জেনারেট করার জন্যই তো যে যেখানে বসে আছে তাকে সেখানে বসানো হয়েছে। তার জন্য যে মানি সরকার থেকে এলোকেশন আছে সেটা তো তিনি পাচ্ছেন। হ্যা প্রশ্ন উঠতে পারে সমাজের একজন ডিগনিফাইড সিটিজেনের জন্য এটা সাফিশিয়েন্ট কিনা। লবি রিভিউ এটা রিভিউ করে তার জন্য যেটা পর্যাপ্ত সেটা করা যাবে। কিন্তু এর বাইরে আবার টেবিলের নিচ দিয়ে হাত কেন? বিকাশ নাম্বার কেন? অবশ্য বিকাশ নাম্বারে ছোট ডিল হয়, মেগা ডিল হয় না। এগুলাই তো শিল্পে প্রথমেই একটা ধাক্কা দিয়ে দেয়। যার কারণে দেশে অনেকের ইচ্ছা এবং সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা ইনভেস্টমেন্ট করতে সিকিউর ফিল করেন না। তো আমার দেশের ইনভেস্টর যারা তারাই যদি সিকিউর ফিল না করে তাইলে ফরেনাররা এখানে আসবে কেন? ব্যবসায়ীরা তো ইন্টারকানেক্টেড। উই আর গ্লোবাল সিটিজেন। আমরা এখন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন তো না। তো এই জায়গাটাতে অ্যাসার্ট করতে হবে, ক্লিন করতে হবে। আমরা কমিটেড। আল্লাহ তাআলা সুযোগ দিলে আপনাদের এই সেবা আমরা করবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>লাল ফিতাকে টুকরা টুকরা করে কেচি দিয়ে কেটে দেব। লাল ফিতা কারো হাতে থাকতে দেব না। আমাদের নিজস্ব কোন এজেন্ডা নাই। এজেন্ডা এতটুকু যে আল্লাহ তালা মানুষের আমানতের বোঝা আমাদের ঘাড়ে দিয়েছেন। উই আর কমপেলড টু সার্ভ দা পিপল। এটা জনগণের প্রতি কোন দয়া নয়। জনগণ দয়া করে আমাকে সম্মানিত করেছে। এই সম্মানের মর্যাদা রাখতে হবে। এই জায়গাগুলো আমরা ইনশআল্লাহ ক্লিন করব। দোয়া করবেন আমরা যে জায়গা থেকে শুরু করব আমাদের শরীরের সাইজ যেন পাঁচ বছর পরে বেড়ে না যায়। শ্বশুর পরিবারের সম্পদ যেন না বাড়ে। বড় ইন্টারেস্টিং ম্যাটার। সবার শ্বশুর ফ্যামিলি রাতারাতি ধনী হয়। বাপের ফ্যামিলি অতটা হয় না। আমরা ওই কালচার ভেঙ্গে চুরমার করব ইনশাল্লাহ।</p>
<p>আপনারা কষ্ট করে দেশের বুকে লড়াই করছেন নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য। আর যারা বখরা খায় তারা জনগণের টাকা নিয়ে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। বেগমপাড়া খারাপ কোন জিনিস না। আমার দেশে হইতে পারে। ওটা বিদেশে গিয়ে হলো কেন? তাহলে দেশের সম্পদ অন্তত দেশে থাকতো। একটা বেনিফিট মিনিমাম পেতাম। এখন তো জাতির আমও গেল, ছালাও গেল। দুইটাই নাই। আমরা কি করব? আমরা যদি আল্লাহর মেহেরবানীতে দায়িত্বে যাই তাহলে আমরা বুঝাই সুজায়ে বলব এটা ভালো জিনিস না ফেরত দিয়ে দেন। আপনাকে অপমানিত করা হবে না, বরঞ্চ ফেরত দিলে আপনি যে রাষ্ট্রকে রেসপেক্ট করলেন এইজন্য আপনাকে ফারদার রেসপেক্ট করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা তো সবার ওয়েলবিং চাই। তারাও তো আমাদের। তারা তো আমাজনের জঙ্গল থেকে আসেন নাই। এই মাটিতেই আল্লাহ তাদেরকে আমাদের মত পয়দা করেছেন। আমরা তাদেরকে ইনশাআল্লাহ কনসিভ করবো এবং তাদেরকে আমরা ইনশাল্লাহ রেসপেক্ট করব। চাদাবাজ চাদা দিয়ে তো শান্তি নাই। রাতের ঘুম যে হারাম করে দেয় ফোন করে করে আপনাদের। অমুক দেখা করবে একটু সময় দেবেন। অমুক আমার ছেলে। কার ছেলে কে পরিচয় দেয়? আল্লাহই ভালো জানে। এই যে ফোনটা করলো। এরপরে তো আপনার মাথায় ঝিম ঝিম শুরু হয়ে গেল। বাবারে এ কি নকল আজরাইল না আসল আজরাইল? এটা আপনারা সাফার করেন না? কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারেন না। ডুকরে ডুকরে কষ্ট পান, এক্সপ্রেস করেন না। আপনারা আপনাদের সারা পেইন আমরা বুঝি না কিছু হলেও আমরা ফিল করি ইনশাআল্লাহ। মাথা যখন ঠিক হবে পায়ের পাতাও ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।</p>
<p>এবং আমাদের অঙ্গীকার আমরা মাথা থেকে সাহায্য করা শুরু করব। আমরা বলব না যে শুদ্ধি অভিযান, সাহায্য করা শুরু করব। আমরা সবাইকে সাহায্য করতে চাই। আমরা হালাল রোজির জগতে সবাইকে ফিরিয়ে আনতে চাই। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে আমরা এক জায়গায় আনতে চাই। আমরা জাতিটাকে আর বিভক্ত করতে চাই না। আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি নিয়ে সামনে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ দিতে চাই। তবে অবভিয়াসলি ইট ইজ আওয়ার ইয়াং জেনারেশন যাদের হাতে আমরা ককপিটের চাবিটা তুলে দিতে চাই। সেদিন আমরা প্যাসেঞ্জার সিটে গিয়ে বসতে চাই। সন্তানেরা দেশ চালাবে আমরা ইনশআল্লাহ জার্নি এনজয় করব ইনশাআল্লাহ। প্লিজেন্ট জার্নি ইনশাআল্লাহু তালা আজিম। আমরা সেই স্বপ্নের দেশটাই দেখছি। আল্লাহ যদি আপনাদের দোয়া ভালোবাসা সমর্থনে আমাদেরকে এই সুযোগটা দেন ব্যবসায়ী বন্ধুরা আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের জন্য পাহারাদারের ভূমিকা পালন করব। কারণ আপনারা কি করেন? আপনারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে সার্ভিস প্রোভাইড করেন। একটা মানুষকে সার্ভিস প্রোভাইড করা মানে একটা ফ্যামিলিকে লুক আফটার করা। এই যারা লক্ষ লক্ষ ফ্যামিলিকে লুক আফটার করছেন তাদের প্রতি আমাদের দায় আছে। অবশ্যই দায় আছে। আপনারা যেভাবেই মানুষগুলাকে তুলে কুলে তুলে রেখেছেন আমরা ইনশাআল্লাহ ব্যবসা এবং শিল্পকে আমাদের শিশুর মত কোলে তুলে স্নেহ করব, আদর করব ইনশল্লাহ। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তৌফিক দেন।</p>
<p>এখন আপনাদের মূল্যবান রিকমেন্ডেশন গুলা মন ভরে শুনবো আর শিখবো। তো আশা করি যারা মডারেট করছেন তারা সবদিক খেয়াল রেখে ইনভাইট করবেন। আমার এই কথায় কেউ যদি হার্ট হয়ে থাকেন, সামান্য কষ্ট পান আপনাদের একজন অবুঝ ভাই হিসেবে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি আগেই স্বীকার করে নিয়েছি আমার যোগ্যতার আমার ইলম খুবই সীমিত। আমি সীমিত পুঁজি নিয়ে সাহস করে আপনাদের সাথে চলি। এই আশায় যে আপনাদের কাছ থেকে শিখবো। নিজেকে পারফেকশনের দিকে নেব এবং মানুষের কিছু সেবা করার সুযোগ পাব। সবাইকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।</p>
<p><a target="_blank" href="https://www.youtube.com/watch?v=ZbR3NMWDpyU">বক্তব্যটি ইউটিউবে শুনুন</a></p>
]]></content:encoded></item></channel></rss>